কুড়িগ্রামে নদীভাঙনে আড়াইশ ঘরবাড়ি বিলীন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০৩ এএম

তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে উত্তর সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র পাড়ের শত শত পরিবার। সপ্তাহখানেক ধরে তিস্তা নদীর ভাঙনের তোড়ে জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষ হারিয়েছে আড়াই শতাধিক বাড়িঘর।

ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, দুটি মসজিদ, একটি মন্দির, ঈদগাহ মাঠ, বজরা পশ্চিমপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, পুরাতন বজরা বাজার ও একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনকবলিতরা আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে। উপজেলা প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনকবলিতদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটা ও গোয়ালপুড়ি গ্রামে গত এক মাসে ২০টির মতো বাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়েছে। তাছাড়া ঘোগাদহ ইউনিয়নের একটি চর ও রসুলপুর গ্রামেও গত এক মাসে ৩০টি পরিবার ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে। উলিপুরের বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম কালপানি বজরা, কালপানি বজরা ও সাতালস্কর গ্রাম এবং উত্তরের জজমিয়ার বাড়ি থেকে দক্ষিণে রোস্তম মৌলভীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দু’কিলোমিটার এলাকাব্যাপী ভাঙন শুরু হয়েছে।

এরমধ্যে সম্প্রতি হঠাৎ করে ভাঙনের তীব্রতার ফলে প্রায় আড়াই শতাধিক বাড়িঘর, শত শত বিঘা ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ মাঠসহ মানুষের শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা এমন ভয়াবহ ছিল যে একরাতের মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৩০-৪০টি বাড়ি মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়েছেন নদী-তীরবর্তীরা।

বজরা পশ্চিম পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মৌলভী রেফাকাত হোসেন বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছি। গত পরশুদিন থেকে হঠাৎ করে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে মাদ্রাসার অর্ধেক চলে গেছে। বাকিটা ভেঙে নিয়ে যাওয়ার  চেষ্টা করছি। কালপানি বজরার এলাকার মোজাম্মেল হক (৬৫) জানান, তিনদিন থাকি এটে (খোলা মাঠে) পরি আছি। গরিব মানুষ জায়গা নাই কোটে যাই। আজকে বজরা বাজারের বাসিন্দা দূর সম্পর্কের জেঠতো ভাই টিটু মিয়া তার খুলিত (আঙিনায়) ঘর তোলার অনুমতি দিছে। দেখি ওটে যায়া আপাতত উঠি, তারপর আল্লাহ দেখপে। চেয়ারম্যান- মেম্বাররা শুধু দেখে গেছেন। তাদের নাকি কিছুই করার নেই।

সদরের যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, গত এক মাসে আমার ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। তাদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। 

ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নে এক মাসে ৩০টির মতো পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল কুমার জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভাঙনকবলিতদের দ্রুততম সময়ে তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা  পেলেই সহযোগিতা শুরু করা হবে। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমরা ভাঙনের বিষয়গুলো আপডেট করেছি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামগুলোর উজানে নদীশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ায় এখানে হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত