রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের মূল ভবন দুটিই জরাজীর্ণ। এখন ভবন দুটিতে থেমে থেমে খসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা। সর্বশেষ, গত ২৩ আগস্ট বেলা ১১টায় ভবনের জরুরি বিভাগের সামনে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এসময় বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। এতে অল্পের জন্য কয়েকজন রোগী রক্ষা পান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের মূল ভবনটি খুবই জরাজীর্ণ। অপরদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ছাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সেবা কার্যক্রম চলে আসছে। অফিসের ভেতরে-বাইরে ছাদের পলেস্তারা উঠে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে অফিস করছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী সৌরভ তালুকদার বলেন, অফিসের ভেতরে-বাইরের ছাদে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন অফিস করি। অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজন প্রাণের ভয় নিয়ে ঢুকছেন। মাঝেমধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে অফিস এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবার পরিকল্পনা অফিসে সেবা নিতে আসা চন্দ্রঘোনা গ্রামের জয়নাব বেগম জানান, আমাদের প্রায় সময় আসতে হয় এ অফিসে। ছাদের বড় বড় অংশজুড়ে পলেস্তারা উঠে গিয়েছে। এসব দেখলে ভয় লাগে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাবেয়া বেগম জানান, পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ভবনটি সম্পূর্ণ বসবাস অনুপযোগী। ভবনটি পুনর্নির্মাণ খুবই জরুরি। প্রাণহানির আশঙ্কা নিয়ে অফিসে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এটা হতাশাজনক।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) কাউসার আক্তার পপি জানান, এ অফিসটি বসবাসের অনুপযোগী হয়েছে অনেক বছর আগেই। ভবনটি পুনর্নির্মাণ করলে সেবা কার্যক্রমে ব্যাপক গতি আসবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভবনটি ১৯৬৫ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়। এখন ভবনটিতে মাঝেমধ্যেই পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এটি এতটাই বেহাল যে, পুনর্নির্মাণ ছাড়া সংস্কার করে কোনো লাভ নেই। লিখিতভাবে জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে ফোনেও অবহিত করা হয়েছে, যেন নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
