পদ্মার ভাঙনে ঘরদোর সরাতে ব্যস্ত মানুষ

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫৪ পিএম

শরীয়তপুরে বাড়তে শুরু করেছে পদ্মা নদীর পানি। গতকাল বৃহস্পতিবার পদ্মার পানি বিপদসীমার মাত্র ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছিল। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া গ্রামে ভাঙনকবলিত মানুষ বসতভিটা সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। ভাঙন রোধে গতকাল থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। জাজিরার কাথুরিয়া গ্রামে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। দিনে এবং রাতে থেমে থেমে ভাঙছে পদ্মার পাড়। গত এক সপ্তাহে কাথুরিয়া গ্রামের অন্তত ২০টি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পদ্মা নদীর গর্ভে চলে গেছে কয়েক একর ফসলি জমি, গাছপালা ও অন্যান্য স্থাপনা। নিজেদের সব হারিয়ে অন্যের ভিটে ভাড়া নিয়ে থাকছে অনেক পরিবার। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে গ্রামটির অন্তত ২০০ পরিবারকে বসতবাড়ি স্থানান্তর করতে হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাওয়া-দাওয়া না করে ঘর সরাতে ব্যস্ত ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি। পালেরচর ইউনিয়নসহ বড়কান্দি, পূর্ব ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও তুলাসার ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটছে এসব এলাকার মানুষের।

কাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর হাওলাদার বলেন, ‘বেশ কয়েক বছরের ভাঙনে আমাদের ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যতটুকু ছিল গত এক সপ্তাহে আবার তীব্র ভাঙনে সেটুকুও হারাতে বসেছি। আমাদের গ্রামের অন্তত ২০টি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মোহাম্মদ লিটন বলেন, ‘আবার কাথুরিয়া এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত আছে। জাজিরা উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ ৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।’

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, ‘বর্তমানে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও বড়কান্দি ইউনিয়ন পদ্মা তীরবর্তী অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আগের ফালানো জিও ব্যাগ ও জিও ট্যাপ সরে যাচ্ছে। ভাঙনকবলিত এলাকা ভিজিট করে ভাঙন রোধ করতে চেষ্টা করছি। পদ্মা সেতুর জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্বে ১৬ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন রোধে প্রকল্প গ্রহণের জন্য ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি গ্রহণ করেছি। প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ী বেড়িবাঁধের মাধ্যমে এই এলাকার লোকজন ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত