বাম্পার ফলন আর দামে খুশি টাঙ্গাইলের পাটচাষিরা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫৪ পিএম

কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা এবং কৃষি বিভাগের তদারকিতে চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। দাম ভালো পেয়ে তাই কৃষকরাও খুশি। প্রথম দিকে কিছু জায়গায় জলাশয় ও পানির অভাবে পাট জাগ দিতে কৃষকরা সমস্যায় পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠা গেছে। সব মিলিয়ে সোনালি আঁশ ও রুপালি কাঠি বিক্রি করে টাঙ্গাইলের কৃষকের মুখে এখন দেখা যাচ্ছে আনন্দের ঝিলিক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও এই এলাকার পাটচাষিরা পাটের ভালো দাম পেয়েছেন। যে কারণে এ বছর পাট চাষের দিকে তারা বেশি আগ্রহী হন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও মাটি চাষের উপযুক্ত হওয়ায় পাট চাষে সফল হয়েছেন চাষিরা। গত বছর জেলার ১২টি উপজেলায় ১৬ হাজার ৮৮ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৮৯ বেল পাট উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৬৪২ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে পাট চাষ হয়েছে ১৭ হাজার ১৪৭ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫০ বেল।

চলতি মৌসুমে জেলার সদর উপজেলার ২ হাজার ৭৪০ হেক্টর, বাসাইলে ৪২৯ হেক্টর, কালিহাতীতে ১ হাজার ১৯৫ হেক্টর, ঘাটাইলে ৯০০ হেক্টর, নাগরপুরে ১ হাজার ৭৫৬ হেক্টর, মির্জাপুরে ১ হাজার ১৬৮ হেক্টর, মধুপুরে ৯১ হেক্টর, ভূঞাপুরে ৪ হাজার ১২৫ হেক্টর, গোপালপুরে ২ হাজার ৯৪০ হেক্টর, সখীপুরে ১৪০ হেক্টর, দেলদুয়ারে ১ হাজার ৪৫৬ হেক্টর ও ধনবাড়ীতে ২১৭ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে।

কৃষি অফিস ও স্থানীয় কৃষকরা জানায়, টাঙ্গাইলে দেশি, তোষা, মেশতা, রবি-১ জাতের পাটের আবাদ হয়েছে। তবে উচ্চ ফলনশীল তোষা জাতের পাট চাষ বেশি হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ১০ মণ পাট পাওয়া গেছে। পাট বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দরে।

বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাট থেকে আঁশ ছাড়ানো ও শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। গৃহিণীরাও এই কাজে সহায়তা করছেন। পরম আগ্রহ নিয়ে তারা পাট ও পাটশোলা শুকাচ্ছেন। হাটবার হলেই রিকশা, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কৃষকরা মনের আনন্দে পাট বিক্রি করতে যাচ্ছেন। বর্ষার শেষদিকে এসে নদী, নালা, খাল ও বিলে পানি থাকায় পাট জাগ দিতে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি চাষিদের।

মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চরবিলসা গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, গেল বছরের মতো এবার পাটের দাম ভালো। পাট চাষের পরিশ্রমকে ভুলিয়ে দেয় ভালো দাম। গত সপ্তাহে বারিন্দা বাজার হাটে প্রতি মণ পাট বিক্রি করেছি ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে।

মির্জাপুর পৌর এলাকার পোষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা পাট ব্যবসায়ী সজিব মিয়া বলেন, বাজারের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের সরবরাহ অনেক বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাটের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে বেশি ঝুঁকেছেন। নতুন জাতের রবি-১ পাট বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং তার ফলন অনেক ভালো। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ায় হয়েছে। এসব কারণে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত