শান্তির অপেক্ষায় হিমালয়ের কোল

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৭ পিএম

হিমালয়ের কোলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) গোগরা-হট স্প্রিং এলাকা থেকে ভারত ও চীনের সেনা সরিয়ে নেওয়ার সমঝোতা বাস্তবায়ন চলছে। সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া আগামী সোমবারের মধ্যে শেষ হবে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সেনা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এ সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘাতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হওয়ার দুই বছর পর সেখানকার মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরতে শুরু করল দুইপক্ষ।

উভয়পক্ষই বলেছে, সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে সেনা সরানোর কাজ চলছে আর এটি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। সামনে উজবেকিস্তানে হতে যাওয়া সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগ দেওয়া নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী সপ্তাহে সেই বৈঠকে মোদি যোগ দিলে সম্মেলনের আসরে তার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠক নিয়ে জল্পনা প্রবল। তার আগে গোগরা-হট স্প্রিংয়ের প্যাট্রলিং পয়েন্ট ১৫ (পিপি-১৫) থেকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট অর্থবহ।

এতদিন এলএসিতে দুই দেশের হাজার হাজার সেনা মোতায়েন থাকলেও বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, মুখোমুখি অবস্থানের অবসান হচ্ছে। বাহিনীগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুই বছর আগে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আগে যার যেখানে অবস্থান ছিল, গোগরা-হট স্প্রিং অঞ্চলের সেখানে তারা চলে যাবে।

মুখপাত্র বলেন, শান্ত এলএসির দিকে এটি প্রথম পদক্ষেপ। সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরতে চীন-ভারত সমঝোতা বিষয়ে শুক্রবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সেনারা সমানতালে ও পরিকল্পিতভাবে অবস্থান থেকে সরতে শুরু করেছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শান্ত অবস্থা বজায় রাখতে এটি সহায়ক হবে।

চীন ও ভারতের মধ্যে অনির্ধারিত ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্তে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত আছে তারা।২০২০-এর জুনে হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে দুইপক্ষের সেনাদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা ও ৪ চীনা সেনা নিহত হয়। প্রায় হাতাহাতি এ লড়াইয়ে বিভিন্ন ধরনের অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার হলেও কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি। এ ঘটনার পর এশিয়ার এ দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী শক্তির মধ্যে প্রবল উত্তেজনা দেখা দেয়।এরপর থেকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে ১৬ রাউন্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে উত্তেজনা হ্রাস ও মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত