আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করি না, বন্ধু বলে মনে করি। আমরা চাই তারা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করুক। কিন্তু সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে।’ গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিনা ভোটের সরকার অবৈধভাবে টিকে থাকার জন্য সংবিধান লঙ্ঘন করে, মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুলিশকে ব্যবহার করছে। এ কারণে পুলিশকে অবৈধভাবে ব্যবহারের বিষয়গুলো জনগণের সামনে, মানুষের সামনে এসে দাঁড়ায়। আজ র্যাবের বিরুদ্ধে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কারণ তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এ অবস্থায় একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে দেওয়া। এরপরও তারা যদি সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালন করে তবে তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আসতে পারে।’
সারা দেশে বিএনপির কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের অতি উৎসাহী ভূমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব জায়গায় এই ঘটনাগুলো ঘটছে না বা সব পুলিশই এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে না। কয়েকটা জায়গাতে অতি উৎসাহী কিছু অফিসার এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমরা জানতে চেয়েছিলাম নারায়ণগঞ্জে চাইনিজ রাইফেল দিয়ে গুলি হলো সেটা কীভাবে হলো, কোন কর্তৃত্ব থেকে সে (গোয়েন্দা পুলিশ) এটা ব্যবহার করতে পারল। সেই উত্তর কিন্তু এখনো বাংলাদেশের মানুষ পায়নি।’
গত রবিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলনে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি বড় করে উঠে এসেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য তারা এখানে একটা নিরপেক্ষ স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সহায়তা করতে সরকারকে বলেছে যে, আমাদের সুযোগ দাও, আমরা এটা করতে চাই। অর্থাৎ এখানে যে মানবাধিকার লঙ্ঘেন হচ্ছে সেই মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলো যেন বন্ধ করা যায়। একসঙ্গে অত্যন্ত পরিষ্কার করে বলেছে যে, মানুষের কথা বলার যে অধিকার, তার মতপ্রকাশের যে অধিকার তাকেও এখানে আপহোল্ড করতে হবে। একই সঙ্গে বলেছে যে, নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে যেন শুধুমাত্র তার মতের জন্য হয়রানি না করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের টাকা ভাগাভাগি করে খাওয়ার জন্য সরকার চারটি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া গুটিকয়েক ব্যবসায়ীকে মুনাফা পাইয়ে দিতে অনৈতিকভাবে ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি করছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
