খাল খননে চাষের আওতায় চার হাজার কৃষকের জমি

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৫ এএম

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের বেহুলার বিল। নিষ্কাশন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সারা বছরই পানিতে ডুবে থাকত বিলের ৪৫০ হেক্টর কৃষিজমি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দুর্ভোগে ছিলেন রাউতি, ধুলাউড়ি, চৌবাড়িয়া, ভুলবাড়িয়াসহ আট গ্রামের প্রায় চার হাজার কৃষক।

সম্প্রতি, নিষ্কাশন খাল পুনঃখননে নেমে গেছে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিলের পানি। এতে চলতি মৌসুমেই জমিতে ফসল রোপণের আশা করছেন স্থানীয় কৃষিজীবীরা।

পুনঃখনন করা হয়েছে উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বান্নেগাড়া খালও। বর্ষার পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমেও জলাবদ্ধ থাকত খালপাড়ের ছয় গ্রামের বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। কিন্তু এখন জমিতে আটকে থাকছে না বর্ষার পানি। পাট কেটে খালের পানিতে জাগ দিতে পেরেছেন চাষিরা। এসব খাল খননে বদলে গেছে পাবনার সাঁথিয়ার গ্রামাঞ্চলের কৃষিচিত্র। চাষাবাদের আওতায় এসেছে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি সহস্রাধিক হেক্টর কৃষিজমি। পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধায় চলতি মৌসুমেই সুফল পাবেন চাষিরা, বলছে কৃষি বিভাগ।

দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ফলে বেহুলা ও বান্নেগাড়া বিলের জমিতে ধান, গম, পেঁয়াজ, রসুনসহ রবিশস্য রোপণ করতে পারবেন চাষিরা। লো লিফট পাম্প ব্যবহারে সেচকাজ হবে খালের পানি দিয়েই। জ¦ালানি সাশ্রয়ে ফসল উৎপাদনের খরচও কমবে চাষিদের। চাপ কমবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারেও।

পাইকশা গ্রামের চাষি ইলাহী মুন্সী বলেন, আমাদের শত শত বিঘা জমি চাষ করতে পারতাম না। পানি ও কচুরিপানায় ঢেকে থাকত। দু-এক বিঘা চাষ করতে পারলেও খরা মৌসুমে সেচ দিতে ব্যয় বেড়ে যেত। কিন্তু এই খাল খননের ফলে যেমন জমি থেকে জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে, তেমনই খরার মৌসুমে সেচ নিয়েও দুশ্চিন্তা কমেছে।

আরেক চাষি আরিফ মিয়া বলেন, এই খাল খননে আমরা খুব উপকৃত হয়েছি। বছরের অধিক সময় জলে ডুবে থাকা জমিগুলোও আমরা চাষ করতে পারব।

কালাইচারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মাজেদ বলেন, খাল খননে ফসল আনা-নেওয়াতে সুবিধা হয়েছে। এখন আমরা খুব সহজে নৌকা নিয়ে সবকিছু আনা-নেওয়া করতে পারছি। খাল দিয়ে পানি নেমে যাওয়ায় চাষ করতে পারব। কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্র জানায়, ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ (পানাসি) প্রকল্পের আওতায় সাঁথিয়ায় প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার খাল খনন করেছে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা।

পানাসির প্রকল্প পরিচালক এ.বি.এম মাহমুদ হাসান খান বলেন, সাঁথিয়া উপজেলার বেহুলা ও বন্নেগাড়া বিলের খাল দুটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ১৫শ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং ৬শ হেক্টর জমি এক ফসলি থেকে দুই-তিন ফসলিতে পরিণত হবে। তিনি আরও জানান, লো লিফট পাম্প ব্যবহারে সেচকাজ হবে খালের পানিতেই। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ে ফসল উৎপাদনের খরচও কমবে চাষিদের। চাপ কমবে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারেও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত