সার-বীজের পরনির্ভরতায় বাড়ছে কৃষকের আত্মহত্যা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৭ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আর্থ-রাজনৈতিক ইতিহাসে ভূমি সংস্কারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়। বামফ্রন্ট শাসনের গোড়ার দিকে ভূস্বামীদের জমি কেড়ে ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। এর ফলে জমিতে ভাগচাষিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়। এতে বেড়েছিল কৃষির ফলন। কিন্তু বাম আমলেই কৃষিজীবীদের জীবনে সংকট তৈরি হতে থাকে। চাপে পড়ে অনেক কৃষক ও কৃষিজীবী আত্মহত্যাও করেছেন। আর সেই সংকট দিনে দিনে আরও অনেক বেড়েছে।

রাজ্যটির পুলিশ প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১২২ জন কৃষক ও চাষবাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পেশাজীবী আত্মহত্যা করেছেন। জেলা পুলিশের ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) ও স্টেট পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শুধু চাষি নন, কৃষিকাজের সঙ্গে যাদের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে, তাদেরও এ তালিকায় রাখা হয়েছে। চলতি বছরেও ওই জেলায় ৩৪ জন

কৃষিজীবী আত্মঘাতী হয়েছেন। অথচ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) কাছে কোনো আত্মহত্যার তথ্য নেই। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কৃষকদের ফসলের দাম না পাওয়া, অভাবী বিক্রি, ঋণের দায় বেড়ে যাওয়ার ফলে আর্থিক সংকট নতুন কিছু নয়। তবে এক বছরে এত বেশি আত্মহত্যার তথ্য আগে কখনো জানা যায়নি। তবে রাজ্য সরকারের শাসক দল তৃণমূলের বক্তব্য, কৃষিজীবীর আত্মহত্যা কৃষিসংক্রান্ত কারণে নাও হতে পারে। দলটির ভাষ্য, শুধু

‘কৃষিজীবী আত্মঘাতী’ বললে সঠিক ছবি উঠে আসে না।

পশ্চিমবঙ্গে কৃষিজীবীদের আত্মহত্যা প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, কৃষকরা সবসময় অনিশ্চয়তায় ভোগেন। তারা বিনিয়োগ করেন, কিন্তু কতটা ফেরত পাবেন তা প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। আবহাওয়া অনুকূল না হলে ফসলের ক্ষতি। আবার অনুকূল হলে অতিফলনে কৃষিপণ্যের দাম কমে যায়। একটা সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর থাকে কৃষকের ভবিষ্যৎ। গোটা ভারতে একই ছবি।

এ সংকটে করপোরেট পুঁজির হাত দেখছেন ফোরাম ফর ইনডিজেনাস এগ্রিকালচারাল মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক চিন্ময় দাস। তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও বাজার করপোরেটের ইচ্ছেয় চলে। কৃষক বীজ, সারের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর নন। উৎপাদিত ফসলের বাজার না পেলে ঋণের বোঝা বাড়ে, আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত