মন্ত্রী এমপিরা পদে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৬ এএম

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে পরিণত করা দেশের গণতান্ত্রিক সুশাসন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি এ আহ্বান জানায়। গতকাল (১৫ সেপ্টেম্বর) ছিল আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। এ উপলক্ষে টিআইবি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বা সব নিবন্ধিত দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে হলে কোন বিষয়গুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য প্রয়োজন, নির্বাচন কমিশনের উচিত তা বিশ্লেষণ করা। এ ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগের বিষয় হলোনির্বাচনে সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যরা স্বপদে বহাল থেকে নির্বাচন করলে স্বাভাবিকভাবেই যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হয়, তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। এ দুটি কাজ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। নির্বাচনকালীন সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই একমাত্র উপায় নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক চর্চা অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে যে ধরনের রূপরেখার আওতায় নির্বাচন হয়, তা অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্কার অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি। তবে একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।’

সর্বশেষ দুটি জাতীয় নির্বাচনে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের অত্যন্ত বিতর্কিত ভূমিকা মাঠপর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হওয়ার মূল কারণ ছিল বলে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালে এ সংস্থাগুলোর বদলি ও পদায়নসহ সার্বিক কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব অংশীজনের প্রতিবন্ধকতাবিহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ও তথ্য সংগ্রহ, প্রচার ও প্রকাশকে অবাধ ও মুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশনকে কঠোরভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।’

ইভিএম বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত বিতর্কিত ও দৃশ্যত পূর্বনির্ধারিত বলে মনে করেন ড. জামান। তিনি এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ইভিএম ব্যবহারের রাজনৈতিক, কারিগরি ও আর্থিক লাভ-ক্ষতি পর্যালোচনা করে সব অংশীজনকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।

টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলমের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন : গণতান্ত্রিক সুশাসনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক এ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া সাংবিধানিক বিশেষ দায়িত্ব ছাড়াও নির্বাচনকালীন সরকার, প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। সব দলের জন্য সুষ্ঠু ও অবাধ প্রতিযোগিতার সুযোগ না সৃষ্টি করতে পারলে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ভোট বাক্স বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারসহ সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোট নিজে না দিতে পারা, ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া, ভোটকেন্দ্রে এবং ভোট গণনার সময় সব দলের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখনো এগুলো নির্বাচনকেন্দ্রিক উদ্বেগের কেন্দ্রীয় উপাদান।

টিআইবি আশা করে, বিরোধী দল ২০১৩-এর মতো অনমনীয় পদক্ষেপ নেবে না এবং নির্বাচন বর্জনের চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী হবে। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে জন্য তারা প্রয়োজনীয় ও বাস্তবায়নযোগ্য দাবিগুলো জানাবে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সব অংশীজনের জন্য গ্রহণযোগ্য কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশও তুলে ধরেছে টিআইবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত