৯৯৯–এ ফোন পেয়ে কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত নারীর কারাদণ্ড

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০৪ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৯৯৯–এ ফোন করে পাঁচ দিন ধরে আটকে থাকা ১৩ বছরের কিশোরী মেয়েকে ফিরে পেলেন বাবা। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে মির্জাপুর থানা-পুলিশ উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল উত্তর পাড়া বিল্লাল মিয়ার বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।

কিশোরীকে আটকে রাখার অপরাধে পুলিশ বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগমকে (৪৮) আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম।

জানা যায়, আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রামে ওই কিশোরীর বড়ি। গত শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল বেলা বাড়ির বাইরে দেখা হলে নানান প্রলোভন দেখিয়ে আসামি ওই কিশোরীকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে তরল পদার্থ জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর আবারও তাকে তরল পদার্থ জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। সারা রাত ওই কিশোরী অচেতন অবস্থায় ঘুমায়। এভাবে অচেতন করে তাকে পাঁচ দিন আটকে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্তর বাড়ির পাশের বাড়িতে টিউবওয়েল স্থাপন করতে আসেন কিশোরীর পরিচিত ব্যক্তিরা। তারা কিশোরীর সঙ্গে কথা বললে অভিযুক্ত সাহিদা বেগম তাকে যেতে দিচ্ছে না বলে জানায়। পরে তারা কিশোরীর বাবাকে বিষয়টি জানায় এবং তাড়াতাড়ি পুলিশ নিয়ে আসতে বলে। পরে কিশোরীর বাবা ৯৯৯–এ কল দিলে মির্জাপুর থানা বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সাহিদা বেগমকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত নারী সাহিদা বেগম বিভিন্ন স্থান থেকে কিশোরী-তরুণী মেয়েদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড করতে বাধ্য করে।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিশোরীকে উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিশোরীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত