চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গীবাজার ব্যাপটিস্ট মিশন রোডের এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চুলে ফ্রেঞ্চ বেণি করায় কাবাডি দলের কয়েকজন ছাত্রীকে 'মারধর' করেছেন প্রধান শিক্ষিকা। তার প্রতিবাদে মাথা ন্যাড়া করে, পরে সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ঘটনা তুলে ধরেছেন স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক ও কাবাডি দলের কোচ জাহিদা পারভীন।
৬ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মারধর ও তার মাথা ন্যাড়া করার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে জাহিদা পারভীণ ফেসবুকে ন্যাড়া মাথার ছবি দিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
তার দাবি, ফ্রেঞ্চ বেণি করায় প্রধান শিক্ষিকা নীপা চৌধুরী স্কুলের কাবাডি দলের কয়েকজন ছাত্রীকে চুল টেনে মারধর করেন। সেই ক্ষোভ ও বেদনা থেকে প্রতিবাদ জানাতে তিনি বাসার পাশে সেলুনে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করেন। তার ফেসবুক পোস্টের পর এ ঘটনা জানাজানি হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা নিপা চৌধুরীর দাবি, ফ্রেঞ্চ বেণি করার জন্য ছাত্রীদের কাউকে মারধর করা হয়নি। কাবাডি খেলতে যাওয়ার আগে স্কুলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাসিমুখে ছবিও তুলেছেন তিনি।
এদিকে ক্ষোভ জানিয়ে শিক্ষিকা জাহিদা পারভীন স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবর ‘বিমুক্তিকরণ পত্র’ (পদত্যাগ) দিয়েছেন। আবেদনপত্র গ্রহণ করে তাকে বিদ্যালয়ে না আসার জন্য প্রধান শিক্ষক জানিয়েও দিয়েছেন।
প্রতিবাদী জাহিদা পারভীন ফেসবুকে লেখেন, স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের ফ্রেঞ্চ বেণি করে ছবি তোলা ও খেলতে যাওয়ার অপরাধে আমার স্কুলে হেড মাস্টার মেয়েদের চুল ধরে মারা ও বকার প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে? পুনশ্চঃ আমার মেয়েরা খেলার মাঠে খেলতে নামার অনুমতি পায়নি। স্কুলের সভাপতি আবার বর্তমানে চট্টগ্রামের সিডিএর চেয়ারম্যান এবং স্কুলটি উনার বড় আব্বার নামে।
এ বিষয়ে জাহিদা বলেন, জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কোতয়ালী অঞ্চলের গ্রীষ্মকালীন খেলায় কাবাডিতে অংশ নেওয়ার জন্য অনুমতি নিয়ে টিম তৈরি করি। স্কুলের ১৩ জন ছাত্রীকে নিয়ে দল করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর স্কুলের মডেল টেস্টের পর দলের জার্সি পড়ে গ্রুপ ছবি তোলার কথা। কাবাডির নিয়ম অনুযায়ী খেলার সময় ক্লিপ বা কোনো ধাতব জিনিস শরীরে রাখা যায় না। সে কারণে তাদের ফ্রেঞ্চ বেণি করতে বলি।
তার অভিযোগ, “ওই সময় ওয়াশরুমে গেলে ফ্রেঞ্চ বেনি দেখে প্রধান শিক্ষিকা ছাত্রীদের ডেকে বকাঝকা করে দুই বেনি করতে বলে এবং কয়েকজনকে মারধরও করে। আমি বের হয়ে তাদের বকা না দেওয়ার অনুরোধ করি এবং চুলের দুই বেনি করে স্কুলের মাঠে গিয়ে উনাকে নিয়ে ছবি তুলে নিই।”
পরদিন (৮ সেপ্টেম্বর) স্কুলের খেলা ছিল খাস্তগীর স্কুলের মাঠে সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুলের সাথে। মডেল টেস্ট চলার কারণে সকালে আমাদের দেরি হবে বলে আয়োজকদের জানাই। পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণে স্কলাসটিকা স্কুলকে ওয়াকওভার দিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আয়োজক স্কুলের গেম টিচার কাজল স্যারকে জিজ্ঞেস করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এ ঘটনার থানা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে প্রতিবাদ করি, বলেন জাহিদা।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি চার দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর স্কুলে যোগদান করলেও ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন (‘বিমুক্তিকরণপত্র’ দেন)। ওইদিনই প্রধান শিক্ষিকার মারধরের প্রতিবাদে স্থানীয় একটি সেলুনে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করি।
পদত্যাগ করার পরও কয়েকদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার আচরণের প্রতিবাদ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বিমুক্তি চেয়েছি পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে। কিন্তু গত ২২ সেপ্টেম্বর আমাকে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলে আসতে মানা করে দেন।’’
কেন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমার ছাত্রীরা আমার অর্ডারে ফ্রেঞ্চ বেণি করে। আর শাস্তি দিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা। নিজের কাছে খারাপ লেগেছে। দু:খ, ক্ষোভ ও বেদনা থেকে মাথা ন্যাড়া করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি।”
