এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসে ভূরুঙ্গামারীর ইউএনওকে শোকজ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:২৯ এএম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার ইউএনওকে দেওয়া শোকজ নোটিসের বিষয়টি গতকাল শুক্রবার জানাজানি হয়।

ইউএনও দীপক কুমার ওই উপজেলার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি। এ বিষয়ে জানতে গতকাল একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল করেও সাড়া মেলেনি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সার্বিক বিষয়ে ইউএনওর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেনকে ভূরুঙ্গামারীতে বদলি করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমি বর্তমানে হসপিটালাইজড আছি। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ছয়টি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। অভিযোগ আছে, এই অপকর্মের নেতৃত্বে ছিলেন একজন কেন্দ্র সচিব, যিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার ধরা পড়ে। এরপর গত বুধবার চারটি বিষয় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা ও রসায়নের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ইতিমধ্যে এসব পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি দুই বিষয় উচ্চতর গণিত ও জীববিদ্যার পরীক্ষা নতুন প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে নির্ধারিত সময়েই নেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা হয়। মামলায় উপজেলার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রের সচিব মো. লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক মো. জোবাইর হোসেন ও মো. আমিনুর রহমান, বিদ্যালয়টির অফিস সহকারী মো. আবু হানিফসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান এবং শিক্ষক জোবাইর হোসেন ও আমিনুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বোর্ডের নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ৫-৭ দিন আগে কেন্দ্র সচিব বা তার প্রতিনিধি এবং ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে ‘প্রশ্নপত্রের চাহিদা’ সঠিকভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। কোনো গরমিল থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে লিখিতভাবে জানাতে হবে। কিন্তু ইউএনও সেই কাজ না করে এক-দুদিনের মধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রশ্নপত্র সটিং করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। একজন কর্মকর্তার পক্ষে হাজার হাজার প্রশ্নপত্র এক-দুদিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই, কাগজে স্বাক্ষর করা এবং নজরদারি-হিসাব করে প্রতিবেদন দেওয়া প্রায় অসম্ভব। আর এই সুযোগে অসাধু কিছু শিক্ষক প্রশ্নপত্র কৌশলে বের করেছেন। ইউএনও যদি শুরুতেই তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতেন, তাহলে প্রশ্নফাঁস হওয়ার আশঙ্কা ছিল না। এর দায় ইউএনও এড়াতে পারেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত