বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সমর কুমার পালকে বর্জনের ডাক দিয়েছে উপজেলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান সফিক।
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমর কুমার পালের কোনো সভায় যোগদান করবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের সদস্যরা।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী আলমগীর শেখকে অফিস কক্ষে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠে সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে।
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক বলেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর পাল ঘুষখোর, বদমেজাজি ও স্বেচ্ছাচারী। তাকে যত দিন বদলি করা না হবে তত দিন কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না উপজেলা পরিষদের সদস্যরা। আমরা আশা করছি পরিষদের কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত তাকে প্রত্যাহার করা হবে।
সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে তাকে প্রত্যাহারের জন্য সোমবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর অভিযোগ পাঠানো হয়।
বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছাড়াও দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও ১১ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সমর কুমার পাল বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই পরিষদের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি সময়মতো অফিসে বসেন না এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে থাকতে বাধ্য করেন। তিনি বিনা প্রয়োজনে ইউপি চেয়ারম্যানদের যখন-তখন অফিসে ডাকেন এবং ফাইল দিনের পর দিন আটকে রেখে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেও কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। এ ছাড়া গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের নৈশপ্রহরী আলমগীর শেখকে ইউএনও তার অফিসে ডেকে নিয়ে বেদম মারপিট করে গুরুতর আহত করেন। যা বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। এ ঘটনার পর ইউএনও তার অফিশিয়াল ফেসবুকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করেন। এতে করে উপজেলা পরিষদের মর্যাদাও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানরা ডিসি অফিসে গেছেন জেনেছি। তবে তারা কেন গেছেন তা আমার জানা নেই।
তার বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলমগীরের বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন তাই সে বিষয়ে কিছু বলা উচিত হবে না। অন্য যে অভিযোগ তারা করেছেন তার কোনো ভিত্তি বা সত্যতা নেই।
