পশ্চিমের সঙ্গে নতুন দ্বন্দ্বে ইরান

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০৯ এএম

ইরানে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি হত্যার প্রতিবাদে ১০ দিন ধরে উত্তাল ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির কঠোর হুঁশিয়ারি, আয়াতুল্লাহ খামেনির পক্ষে লাখো মানুষের মিছিল, পুলিশের গুলি কোনো কিছুতেই দমছে না বিক্ষোভকারীরা। ইতিমধ্যে ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে পাশের কয়েকটি দেশসহ ছড়িয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকায়। তবে তেহরানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের সরকার ও গণমাধ্যমগুলো ইরানকে অস্থিতিশীল করা এবং সার্বভৌমত্ব ক্ষুণেœর চেষ্টা করছে। গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে এর জবাব দেওয়া হবে। এর আগে গত রবিবার যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাজ্যে পরিচালিত ফার্সি ভাষার গণমাধ্যমে ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। আর নরওয়ের সংসদের প্রেসিডেন্ট মাসুদ ঘরাহখানির মন্তব্যের জন্য সে দেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছিল। বিবিসি বলছে, তেহরানে জন্মগ্রহণ করা ঘরাহখানি রবিবার টুইটারে লিখেছিলেন, ‘আমার মা-বাবা যদি ১৯৮৭ সালে পালানোর সিদ্ধান্ত না নিতেন, তাহলে আমিও তাদের একজন হতাম যারা রাস্তায় জীবন বাজি রেখে লড়ছে।’

অন্য দিকে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওয়াশিংটন সব সময়ই ইরানের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও তারা কখনো এতে সফল হয়নি। কানানি তার ইন্সটাগ্রাম পাতায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, তারা দাঙ্গাকারীদের সমর্থন দিয়ে মর্মান্তিক একটি ঘটনার অপব্যবহার করছে।

ঠিকমতো মাথা ঢাকা হিজাব না পরায় মাশা আমিনিকে গ্রেপ্তার করে ইরানের নীতি পুলিশ। তিন দিন পর তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর থেকে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় নারীরা বিক্ষোভ করছেন। প্রকাশ্যে তারা হেডস্কার্ফ খুলে ফেলছেন। অনেকে  হিজাব পোড়াচ্ছেন, কেটে ফেলছেন নিজের মাথার চুল। বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনী কখনো আকাশ লক্ষ্য করে, কখনোবা বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি ছুড়ছে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছেন, পুলিশের গাড়ি ও সরকারি ভবনে আগুনও ধরিয়ে দিচ্ছেন। বিক্ষোভে অন্তত ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে অসলোভিত্তিক ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৫৭ বলে দাবি করছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি শনিবার বিক্ষোভ দমাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গা সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনিও অভিযোগ করেছেন, অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা কাজ করছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত