অর্ধকোটি টাকা মেরে স্কুল পরিচালক লাপাত্তা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩২ এএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শিক্ষকদের বেতন, ভবন ভাড়া ও গাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন দোকানের বকেয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকা নিয়ে এক স্কুলের পরিচালক লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালিয়াকৈর বাইপাস সাহেববাজার এলাকায় রফিকরাজু ক্যাডেট একাডেমির ওই পরিচালক গোপনে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই শহরে পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে চরম হতাশায় ভুগছেন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী শিক্ষক-ব্যবসায়ী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬-৭ বছর আগে উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে তপন মাহমুদ কালিয়াকৈর বাইপাস সাহেববাজার এলাকায় সিরাজুল ইসলামের বহুতল ভবন ভাড়া নেন। পরে তিনি সেখানে টাঙ্গাইল থেকে পরিচালিত রফিকরাজু ক্যাডেট একাডেমির একটি শাখা খোলেন। আবাসিক ও অনাবাসিকভাবে ওই স্কুল পরিচালনা করে আসছিলেন তপন মাহমুদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে ভবনের ভাড়া প্রায় ২০ লাখ, শিক্ষকদের বেতন প্রায় ৩ লাখ, স্থানীয় মীম এন্টারপ্রাইজের প্রেস ও গাড়ি ভাড়া প্রায় ১২ লাখ, মাখন লাল স্টোরের প্রায় ৫৬ হাজার, আমজাদের মুরগির দোকানের ৫০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন দোকান ও টেইলার্সে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বকেয়া রাখেন। পরে ওই টাকা না দিয়ে গত মাসে গোপনে দুবাই চলে যান। তার লাপাত্তা হওয়ার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ওই স্কুলে গেলেও নতুন পরিচালক তার ভাই মোফাজ্জল হোসেন মনির ও অপর পরিচালক রাকিবুল ইসলাম পাওনাদারদের পাত্তা দিচ্ছেন না। এতে চরম হতাশায় ভুগছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা।

মাখন লাল স্টোরের মালিক জহর লাল বলেন, ‘আমার দোকানে স্কুলের নামে ৫৬ হাজার টাকা বাকি আছে। কিন্তু স্কুলের পরিচালক তপনকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার বাবাকে বিষয়টি জানানো হলেও তেমন কোনো আশ^াস দেননি।’

মীম এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম মোস্তফা লিটন বলেন, ‘স্কুলে গাড়ি ভাড়া ও প্রেসের বিল বাবদ ১২ লাখ টাকা পাই। স্কুলের পরিচালককে না পেয়ে গ্রামের বাড়ি গেলেও তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা দিব-দিচ্ছি বলে বিভিন্ন ভাবে ঘুরাচ্ছেন।’

এসব বিষয়ে স্কুলের বর্তমান পরিচালক তপনের ভাই মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ধীরে ধীরে সবার বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হবে।’

তবে অপর পরিচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ওই বকেয়া টাকা সাবেক পরিচালকের, এর দায় আমরা নিব না। তবে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালার বকেয়া টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধের চেষ্টা করব।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘রফিকরাজুসহ এসব কিন্ডারগার্টেন স্কুল আমাদের অধীনে নয়। এসব স্কুলের বকেয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত