জার্মানির জনসংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জার্মানির জনসংখ্যা রেকর্ড হারে বেড়েছে। তবে জন্মহার বাড়েনি। সাবেক যুগোশ্লøাভিয়ায় এবং তারপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময়ও এভাবে হঠাৎ জার্মানির জনসংখ্যা বেড়েছিল।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর পর থেকে এ নিয়ে মাত্র তিনবার দেশটির জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ল। ১৯৯২ সালে যুগোশ্লাভিয়া যুদ্ধের কারণে বেড়েছিল সাত লাখ। তবে ২০১৫ সালে সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জার্মানিতে যে জনস্রোত প্রবেশ করেছিল, তার ধাক্কায় বেড়েছিল ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। আর জার্মানির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২ সালের জুনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে জনবহুল দেশটির জনসখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার বেড়ে ৮ কোটি ৪৩ লাখ হয়েছে। এর ফলে মাত্র ছয় মাসে মোট জনসংখ্যা ১ শতাংশ বেড়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এ বৃদ্ধিতে ইউক্রেনীয় নারী এবং শিশুদের অবদানই বেশি। জার্মানির পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে জার্মানিতে নারী বেড়েছে ১ দশমিক ২ ভাগ আর পুরুষ বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮ ভাগ।
পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, ৮ কোটি ৪৩ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৭ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৭ কোটি ৯০ লাখের মতো মানুষের জন্ম জার্মানিতেই। বাকি মানুষ অন্য দেশ থেকে এসেছে। দেশটিতে অবশ্য শিশু জন্মের হার কয়েক দশক ধরেই কমছে। তবে ২০১৯ সালে যে হারে কমেছে, ১৯৭২ সালের পর থেকে আর কোনো বছরে এতটা কখনো কমেনি। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানির মোট জনসংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৩২ লাখ। তবে ওই বছর ৯ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুও হয়। তবে দেশটিতে মৃত্যুর গড় বয়সও বেড়েছে।
জন্মহার কম এবং মৃত্যুর গড় বয়স বেড়েছে বলে জার্মানিতে প্রবীণের সংখ্যাও অনেক। কাজের বাজার এবং সরকারের পেনশন স্কিমে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগের বছর ৮২ হাজারের মতো মানুষ বেড়েছিল জার্মানিতে। চলতি বছর ইউক্রেনের শরণার্থীদের ঢল নামায় তার প্রায় নয়গুণ বেড়েছে।
