নৌকাডুবির ছয় দিনেও সন্ধান মিলেনি ভুপেন্দ্রনাথের (৩৫)। ছোট্ট দীপু জানে তার বাবা মন্দিরে গেছে, তার জন্য খেলনা নিয়ে ঠিকই ফিরে আসবে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়ায় মর্মান্তিক নৌকাডুবিতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া চার বছর বয়সী দেব শিশুটি দুর্ঘটনা থেকে ফিরে এসেছে বটে কিন্তু ছোট্ট দীপু চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছে তার বাবা-মাকে।
স্বজনরা জানান, ভূপেন্দ্রনাথ ওরফে পানিয়া, তার স্ত্রী রুপালী রাণী ও চার বছরের ছেলে দীপুকে নিয়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অনেকের সঙ্গে নৌকায় ওঠে। মাঝ নদীতে নৌকা ডুবে গেলে নদীর স্রোতে তিনজন তিন দিকে চলে যায়। অলৌকিকভাবে দীপু বেঁচে গেলেও ঘটনার পর দিন ৪০ কিলোমিটার ভাটিতে দিনাজপুরের খানসামায় দীপুর মা রুপালী রাণীর (৩০) লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এখনও দীপুর বাবা ভুপেন্দ্রনাথের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ভুপেন্দ্রনাথের বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মদন চন্দ্রের ছেলে।
গত ছয়দিন ধরে দীপুকে নিয়ে দাদা মদন চন্দ্র মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তথ্য কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছে ছেলের লাশ খুঁজে পাবে এই আশায়। মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে দেখা হয় মদন চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি জানান, বৌমার সৎকার করেছি। ছেলে জীবিত ফিরে আসার আশা নেই। ছেলের লাশ পেলে সৎকার করতে পারতাম। গত ছয়দিন ধরে নাতি দীপুকে নিয়ে মাড়েয়া বামন হাট ইউনিয়ন পরিষদ ও ঘটনাস্থলে ঘুরছি লাশের আশায়।
ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায় মাসির কোল থেকে নিয়ে দীপুকে নিজের কোলে তুলে আদর করলেন। জানালেন, ‘উনার ডাক নামও দীপু। দীপু আমার কোলে এসে সোজা আমার চোখের দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকলো। কী যেন বলতে চায়, ওর চোখ সারাক্ষণ কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে! আমার বুকের ভিতরে হু হু করে উঠলো, গলার মধ্যে কীসের যেন দলা আটকে গেল, নিজেকে সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে!
তিনি জানান, ওর মায়ের নিথর দেহ ফেরত দিয়েছি। তবে এখনও দীপুর বাবাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
