চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জলাশয়ের ওপর চলছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক। জবর দখল করে স্থাপনা তৈরি করছে একাধিক চক্র। পাহাড় কেটে মাটি এনে রাতারাতি জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পাউবোর জায়গা অবৈধভাবে জবর দখল চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তীরের জমিসহ ১০০ কোটি টাকা সমপরিমাণ ৩০ একরের জলাশয় সংস্কার এবং ইহার ব্যবহারের কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘদিন যাবৎ পতিত অবস্থায় এই জলাশয় নানা আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। কর্র্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় জলাশয়ের ওপর প্রতিনিয়ত অন্যায় দখলদারিত্বের উৎপাত চলছে। ইতিমধ্যে জলাশয় তীরের বিস্তীর্ণ জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় জবর দখল শুরু হয়েছে জলাশয়েও। মাটি ভরাট করে অবাধে বহুতল ভবন, কারখানাসহ বাণিজ্যিক ও আবাসিক নানা স্থাপনা নির্মাণ করছে দখলকারীরা। ক্রমে দখলদারিত্ব বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলকভাবে। দখলদারিত্বকে বৈধ করতে নানা কারচুপির মাধ্যমে এবং ভূমি অফিসের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে কেউ কেউ ভুয়া খতিয়ানসহ রেকর্ডপত্র তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাউবোর সরকারি জায়গার ওপর অবৈধ স্থাপনা তৈরির কার্যক্রম চলছে। জলাশয় জুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠেছে স্থাপনা। জলাশয়ের পাশে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় অফিস এবং ক্যাম্পাস পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। চলমান জবর দখলের দৌরাত্মে অফিস ভবনসহ ক্যাম্পাসও বেদখল হয়ে যাওয়ার অবস্থা। জলাশয় ভরাট করে নির্মিত হয়েছে ময়দার মিল, রাইস মিল ও আসবাবপত্রের কারখানাসহ অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এভাবে জবর দখলে ক্রমেই কমে আসছে জলাশয়ের আয়তন।
জলাশয়ের মধ্যে নির্মাণাধীন ময়দা কারখানার মালিক জনৈক নুরুল হক বলেন, ‘অন্যায় দখল নয়, বৈধ মালিকানা থেকে খরিদ করে জলাশয়ে কারখানা তৈরি করছি।’
নামপ্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন দখলকারী বলেন, ‘পতিত জলাশয় সংস্কার করে স্থাপনা তৈরি করেছি। কর্তৃপক্ষ চাইলে দখল ছেড়ে দিব।’
লিচুবাগান পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অবৈধ দখলকারীরা অফিসে চলাচলের রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে পথও অবরুদ্ধ করে রেখেছে। দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় পাউবোর কর্মকর্তাদের আপত্তিরও তোয়াক্কা করে না।
এ বিষয়ে পাউবোর লিচুবাগান অফিসের সহকারী প্রকৌশলী পেলে বড়ুয়া বলেন, ‘প্রশাসনের সহায়তার অভাবে এখানে জবর দখলকারীদের উৎপাত ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর বিভাগ-১) নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, ‘চন্দ্রঘোনা লিচুবাগানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলাশয় ও সরকরি জমিতে জবর দখল উচ্ছেদ জরুরি। সরকারি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মাহবুব মিল্কি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা উদ্ধারে পুলিশ সার্বিক সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’
