বন্ধুত্বের পরীক্ষায় ইউক্রেন

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২২, ১২:৩৭ এএম

শত্রুর শত্রুকে বন্ধু হিসেবে দেখা হলেও সেটা যে অন্ধ-বন্ধুত্ব নয় সেটাই যেন দেখা যাচ্ছে ইউক্রেন-পশ্চিমের সম্পর্কে। রাশিয়ার সঙ্গে দ্বান্দ্বিক সম্পর্কে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন আছে। তবে একেবারে মৌলিক বিষয়ে এখনো ইউক্রেনকে বন্ধুত্বের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত দুই প্রতিবেদনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের বন্ধুত্ব যে পরীক্ষার সম্মুখীন সেটাই স্পষ্ট হয়েছে।

সেই ২০১৪ সাল থেকে সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদ চাইছে ইউক্রেন। কিন্তু ন্যাটো এখনই ইউক্রেনের সেই আশা পূরণ করছে না। গত শুক্রবারও এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনকে দ্রুত পূর্ণসদস্যপদ দিতে ন্যাটো নেতাদের তাগাদা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি প্রশ্ন করেনইউক্রেন যেখানে ন্যাটোর ‘ডি ফ্যাক্টো’ সদস্য হয়েই আছে, সেখানে লিখিতভাবে পূর্ণ সদস্য করে নিতে বাধা কোথায়? 

ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ এ প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘ন্যাটো কোনোভাবেই কোনো সংঘাতের অংশ নয় এবং কোনো পরিস্থিতিতেই জোটের ইউক্রেনবিষয়ক নীতির পরিবর্তন হবে না।’

এই নীতি ব্যাখ্যা করে ইইউ কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন বুধবার ফ্রান্সের টিভি চ্যানেল বিএফএমকে বলেন, ‘ন্যাটোর সদস্যপদ লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ শান্তি। রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে আপনি যদি সত্যিই ন্যাটোর সদস্যপদ চান, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার দেশে শান্তি থাকতে হবে। এটি সদস্যপদ লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। দুঃখজনক হলেও সত্য, ইউক্রেনে এখন যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ যদি বন্ধ না হয় কিংবা এটি থামাতে ইউক্রেনের ভূমিকা যদি সন্তোষজনক না হয়, সেক্ষেত্রে ইউক্রেনের ন্যাটো পদপ্রাপ্তির বিষয়টি ঝুলে থাকবে।’ সম্প্রতি জার্মানির ন্যাটো প্রতিনিধি রুডিগের কোয়েনিগও বলেন, ‘চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনকে সরাসরি সহায়তা করতে ন্যাটো বাধ্য নয়।’ 

পশ্চিমা মিত্রদের এই মনোভাবের মধ্যেই ইউক্রেনের জন্য বেশ বিব্রতকর এক বিস্ফোরক গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেছে খোদ যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ‘তাত্ত্বিক গুরু’ আলেকসান্দর দুগিনের মেয়ে দারিয়া দুগিনাকে ইউক্রেন সরকারই হত্যা করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেন সরকারের একাংশের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়েছিল। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তারা বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আগে জানত, তাহলে তারা অবশ্যই এর বিরোধিতা করত। কিয়েভকেও অপারেশন পরিচালনা না করার পরামর্শ দিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত