বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিনের বিশেষ একটি অংশ (পার্টস) খুলে নিয়ে গেছে মেশিনটির স্থাপনকারী কোম্পানি। সরবরাহকারী ঠিকাদারের কাছে টাকা পাওনা থাকায় তারা এ কাজ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস ও জাইকা সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে। সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৮ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা নতুন এক্সরে মেশিন কেনার আবেদন করেন। পরে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্থানীয় সরকার ও জাইকার সহযোগিতায় উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিক এক্সরে মেশিন কেনা হয়। কিন্তু অবকাঠামোগত ও বিদ্যুতের লো ভোল্টেজের সমস্যায় ১৯ মাস ধরে মেশিনটি হাসপাতালের বারান্দাতেই পড়ে ছিল। নতুন করে আবার প্রায় ১১ লাখ টাকা বরাদ্দের পর অবশেষে মেশিনটি স্থাপনের কাজ করা হয়। কিন্তু সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সমস্ত টাকা পরিশোধ না করায় এটির বিশেষ যন্ত্র খুলে নিয়ে গেছে স্থাপনকারী কোম্পানির লোকজন। এতে অকেজো হয়ে পড়ে আছে এক্সরে মেশিনটি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, এক্সরে মেশিনটি স্থাপন হয়েও যেন হলো না। কোম্পানির নিকট ঠিকাদারের এক লাখ টাকা বাকি থাকায় তারা এক্সরে মেশিনের একটি মূল যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। তাই মেশিনটি এখন চলছে না।
মেশিনটি সরবরাহ করা বাগাতিপাড়ার ঠিকাদার জিয়াউর রহমান বলেন, এক্সরে মেশিনটি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে জানতাম। কিন্তু তারা একটি যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে এটি জানা ছিল না। উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে জামানত হিসেবে ৮৪ হাজার টাকা জমা আছে। বাকি টাকা শিগগির দিয়ে দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, এই এক্সরে মেশিনটি নিয়ে চরম বিপাকে আছি। ঠিকাদারদের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু তাদের জামানতের অর্থ রয়েছে। খুব শিগগির এক্সরে মেশিনটি সচলের ব্যবস্থা না করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
