দেশের তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাদ্য, আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স-ইউএসএর নেতারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির হোটেল শেরাটনে এফবিসিসিআই ও বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স-ইউএসএ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবিধা-সম্ভাবনা ও আমদানি-রপ্তানি নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় এফবিসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিন হেলালী, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স-ইউএসএর প্রেসিডেন্ট মাসুদ চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট শওকত আলী, ট্রেজারার ওয়াহিদ দেওয়ান, পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ, মোহাম্মদ খান, মোহাম্মদ রহমান, প্রবাসী ব্যবসায়ী রায়হান চৌধুরী, তারেক চৌধুরী, সাদমান রহমান, হুমায়ন রশিদ, মো. নুরুল আমিন, তাওহীদ চৌধুরী, জামিল চৌধুরীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এফবিসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিন হেলালী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের অনেক কোম্পানি এখন আন্তর্জাতিক মানের স্যানিটারি পণ্য উৎপাদন করে। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা তাদের প্রকৌশলীদের দিয়ে মান পরীক্ষা করে এসব পণ্য আমদানি করতে পারেন। কারণ আবাসন খাতে ব্যবহৃত সব ধরনের সামগ্রী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর (কমোডিটিস আইটেম) অনেক চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশে।
আমিন হেলালী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের ফর্মুলা ও যন্ত্রপাতি আমাদের দেশে এনে উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারেন। কারণ বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম। আমরা প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছি মাতৃভূমিতে বিনিয়োগ করতে। বাংলাদেশে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন ও টেলিকম খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এফবিসিসিআই কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়। দেশের সব ধরনের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অ্যাপেক্স বডি। ব্যবসায়ীদের নীতি-সহায়তা দেয়। ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে কাজ করে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স-ইউএসএর প্রেসিডেন্ট মাসুদ চৌধুরী গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্প্রতি এফবিসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের অনেকগুলো খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছি। এজন্য আমরা শিগগিরই এফবিসিসিআইর সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সই করব। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় সুপার শপ, শপিং সেন্টার, ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির মালিক। তারা কীভাবে দেশে গিয়ে এসব ব্যবসা করতে পারবেন। সেসব বিষয়ে এফবিসিসিআই থেকে সব ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ দেবে বলে আশা করি।
