শ্রীমঙ্গলের ৮ চিকিৎসক

নিয়োগ ইউনিয়নে, কাজ করেন উপজেলায়

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪৫ এএম

শ্রীমঙ্গলে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োগ হলেও আটজন চিকিৎসক বসছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কাগজ-কলমে তাদের পদায়ন এসব কেন্দ্রে থাকলেও তারা চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। ফলে এসব উপস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র থেকে রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না। গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে এসব চিত্র।

উপজেলার আশিদ্রোণ গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, ‘এখানে মৌমিতা বৈদ্য নামে কোনো ডাক্তার আছেন বলে শুনিনি। অসুখ হলে আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়।’ একই গ্রামের মনির উদ্দিন বলেন, ‘কোনো দিন শুনিনি এখানে ডাক্তার আছেন। আজ আপনাদের থেকে জানতে পারলাম এখানে ডাক্তার নিয়োগ আছে।’

উপজেলার কালীঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টায় গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ঝুলছে তালা।

সরেজমিনে এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দুটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও সাতটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপনাবিহীন। কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার নিয়োগ হলেও সেখানে তারা যাচ্ছেন না। ডা. পার্থ সারথী সিংহকে দশরথ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার পদে গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়োগ দেওয়া। কিন্তু তিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। ডা. শিউলী রানী দেব কাগজে-কলমে সহকারী সার্জন পদে কালীঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োজিত। কিন্তু তিনিও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন। ডা. মৌমিতা বৈদ্যকে সহকারী সার্জন পদে আশিদ্রোণ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে গত ১২ মে থেকে নিয়োগ দেওয়া, ডা. আকাশ রায় সহকারী সার্জন পদে সাতগাঁও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে, ডা. তানজিনা আক্তার সহকারী সার্জন পদে মির্জাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে, ডা. সায়মা আক্তার সহকারী সার্জন পদে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে, ডা. সম্রাট কিশোর পোদ্দার সহকারী সার্জন পদে রাজঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে এবং ডা. অজন্তা দেবী সহকারী সার্জন পদে সিন্দুরখান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও সবাই ইউনিয়ন পর্যায়ে আসেন না। উপজেলাতেই বসেন। এর মধ্যে দুয়েকজন ছুটিতে আছেন বলেও শোনা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘করোনার কারণে এমনটা হয়েছে। তবে ওই চিকিৎসকরা জানেন না তাদের ইউনিয়ন উপকেন্দ্রে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োগের বিষয়টি। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন তারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার লিখিত আদেশে ডা. মৌমিতা বৈদ্য ও ডা. পার্থ সারথী সিংহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তবে ডা. আকাশ রায় প্রতি সোমবার সাতগাঁও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে যান। শিগগিরই অন্যান্য কেন্দ্রে ডাক্তার যাবেন।’ এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শিদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি অবগত নই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত