সমাবেশে ফখরুল

কুইক রেন্টালের নামে সরকার টাকা পাচার করেছে

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২২, ০৩:১৯ এএম

কুইক রেন্টালের নামে সরকার বাজেটের সমপরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসে সরকারি সব আইনকানুন ভঙ্গ করে দল সমর্থক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বরাদ্দ দেয়। এরপর বরাদ্দ পাওয়া পাওয়ার প্ল্যান্টের মালিকদের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিদেশে টাকা পাচার করেছে।

গতকাল শনিবার ওলামা দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের নসরুল হামিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় সভা শুরুর কিছুক্ষণ পর সেখানে লোডশেডিং শুরু হয়। লোডশেডিং ও তীব্র গরমের কারণে মিলনায়তন থেকে সামনে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এক ঘণ্টা লোডশেডিং শেষে সভা শুরু হয়।

মির্জা ফখরুল ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার বলে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন করে লোডশেডিংকে তারা জাদুঘরে পাঠিয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে সরকার আলোর উৎসব করেছে। অথচ এখন সারা দেশের জনগণ বিদ্যুৎ পায় না। জাদুঘর থেকে লোডশেডিং এনে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকাবাসী বিদ্যুৎ পেলেও সারা দেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ তৈরি করলেও তা ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশনের কোনো ব্যবস্থা করেনি। তাই এই সরকারের আমলে এ পর্যন্ত দুবার পাওয়ার গ্রিড ফেল করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে গণতন্ত্রের কথা বলেন। অথচ দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নেই, সংগঠন করার স্বাধীনতা নেই। মানুষের নিরাপত্তা নেই। মানুষ প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামলে পুলিশ পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছে।’ 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমরা একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছি। আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে এদের পরাজিত করা যাবে না। এরা একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি। ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করা গণতান্ত্রিক দলের পক্ষে খুবই কঠিন। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ প্রত্যেক জেলায় যারা বিএনপিতে সক্রিয়, যারা অর্থের জোগান দেয়, যারা লোকবল দেয় তাদের তালিকা করতে বলেছে। এই নামগুলো নিয়ে তারা তথ্য ভান্ডার তৈরি করবে এবং বিরোধী দল যেন কোনো কাজ করতে না পারে তার জন্য তাদের ওপর দমন-পীড়নের ব্যবস্থা করবে। এই যদি একটি দেশের চিত্র হয় এবং বলা হয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাহলে কি আমরা মেনে নিতে পারি? আমাদের সামনে পথ একটাই, এই সরকারকে সরিয়ে দেব। কারণ এই সরকার প্রমাণ করেছে তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।’

সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরফত আলী সপু, তাঁতি দলের আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজা প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত