দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। দলীয় বর্ধিত সভায় যোগদান না করা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করাসহ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাদের এ নোটিস দেওয়া হয়। নোটিস প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ওই ১৫ নেতাকে আলাদাভাবে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রফি উদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস স্বাক্ষরিত ওই নোটিস ১৫ জনকে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। ডাকযোগে পাঠানো এসব নোটিস গত সোমবার কয়েকজন পাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। যাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ.কে.এম সেলিম মিয়া, মঠবাড়িয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন আফজাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আরিফ-উল হক এবং মঠবাড়িয়ার পাঁচ ইউপির চেয়ারম্যান গুইলশাখালীর রিয়াজুল আলম ঝনো, ধানীসাফার হারুন-অর-রশীদ, দাউদখালীর ফজলুল হক রাহাত, বেতমোর রাজপারার দেলোয়ার হোসেন ও টিকিকাটার রফিকুল ইসলাম রিপন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ বেপারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফজলুল হক মণি, সাপলেজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মজিবর মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাকিল আহম্মেদ নওরোজ।
নোটিসে বলা হয়েছে, পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সালমা রহমান হ্যাপির সমর্থনে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়ালের সভাপতিত্বে মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বর্ধিত সভা হয়। সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের উল্লিখিত ১৫ নেতা উপস্থিত হননি। এতে দলের সাংগঠনিক বিধি ভঙ্গ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এ মর্মে প্রত্যেককে তা সাত দিনের মধ্যে পৃথকভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে নোটিসে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর কারণ দর্শানো নোটিস পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘জেলা থেকে বর্ধিত সভার কোনো চিঠি আমরা পাইনি। চিঠি না পাওয়ায় ১৮ সেপ্টেম্বর আমার স্ত্রীর জেলা পরিষদের সদস্য পদের যাচাইবাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে আমি পিরোজপুর ডিসি অফিসে নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান করছিলাম।’ জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফি উদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ওই ১৫ নেতা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় উপস্থিত না হয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কাজ না করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হয়েছে। তারা নির্দিষ্ট সময়ে জবাব না দিলে দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
