শিক্ষার্থীদের এখন শ্রেণিকক্ষ নেই

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ০১:০৯ এএম

শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বিদ্যালয় ভবন ভেঙে ফেলায় ক্লাস না করেই ফিরে যাচ্ছে সোনাগাজী মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। পাঠদানের সুযোগ না থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়টি।

বিকল্প ব্যবস্থা না করে তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনটি প্রশ্নবিদ্ধ নিলামে বিক্রি করে দেওয়ায় শ্রেণি কার্যক্রম নিয়ে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। অপরদিকে, জরাজীর্ণ ভবনটি স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে ভাঙচুরের কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, কয়েক দিন আগে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের পুরনো দোতলা ভবনটি ভাঙা শুরু হয়। ভবনটি ভাঙা এবং সেখানে নতুন ভবন নির্মাণকাজের সময় বিকল্প শ্রেণি কার্যক্রমের নিয়ম থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগে কোনো নোটিস দেয়নি। কোথায় ক্লাস নেওয়া হবে সে বিষয়েও বিদ্যালয় থেকে জানানো হয়নি। দুর্গাপূজার ছুটি শেষে গত সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে ভবন ভাঙায় তারা ক্লাস করতে পারেনি। দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের পাশে অপেক্ষা করলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিকল্প শ্রেণি কর্যক্রমের কোনো স্থান নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়েই ক্লাস না করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না করে ভবন ভাঙা ঠিক হয়নি, অন্যদিকে বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকে কোনো নোটিস দেয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির প্রশিক্ষণে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে সহকারী শিক্ষক একরামুল হক জানান, বিদ্যালয়ের ২১ শতাংশ জায়গা সোনাগাজী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ভেতরে। যার কারণে পুরনো ভবন ভাঙার সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা যায়নি। এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস না করে ফিরে যেতে হয়েছে। পাঠদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য পৌর শহরের অন্যান্য সরকারি মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কেউ রাজি না হওয়ায় দুদিনের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমাধান হলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে পারবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক যে ঠিকাদার নতুন ভবনের কাজ পাবেন, তিনিই বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করে দেবেন এবং বিকল্প ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দও আছে।

তবে নতুন ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রফিকুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম চোখধন বলেন, এর আগেও অনেক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করেছি, কিন্তু কোথাও বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের করতে হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করবে। সোনাগাজী মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের এখনো ওয়ার্ক অর্ডারও পাইনি। সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মনজুরুল হক বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তার বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও তারা করেননি।  শিগগিরই আশপাশের কোথাও বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত