রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা রোগে ছেয়ে গেছে। ঘরে ঘরে পরিচিত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলায় ড্রপের সংকট দেখা দিয়েছে।
গোয়ালন্দের বেশির ভাগ ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে না এই রোগের প্রতিষেধক। ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব প্রতিষেধকের চাহিদা বাড়লেও সেই পরিমাণ সাপ্লাই না থাকায় কোম্পানিগুলো তা সরবরাহ করতে পারছে না।
জানা যায়, চোখ ওঠা রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও এই রোগের আসল নাম কনজাংটিভাইটিস। চোখের কনজাংটিভা নামক একটি পর্দা রয়েছে। এই পর্দার প্রদাহই মূলত চোখ ওঠা রোগ। চোখ ওঠা রোগ ভাইরাসজনিত এবং ছোঁয়াচে। এই রোগ সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা এই রোগে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
কয়েক দিন গোয়ালন্দসহ এর আশপাশের মার্কেটের বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, চোখের কোনো ড্রপ অধিকাংশ ফার্মেসিতেই নেই। প্রায় প্রতিটি ফার্মেসিতে চোখের ড্রপের কথা বলতেই নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন চশমার দোকানেও কালো চশমার চাহিদা বেড়েছে এবং কিছুটা বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক আক্রান্ত রোগী।
আক্রান্ত রোগী সফিক ম-ল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দুটি চোখের ড্রপ কিনতে গোয়ালন্দ বাজার, জামতলাসহ বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করেছি, একটি ড্রপ পেলেও অন্যটি পাইনি। এমনকি কালো চশমা কেনার জন্য দোকানে গেলেও অনেকটা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তা ছাড়া ওই দোকানে চশমাও ছিল কম।’
অপর রোগী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমার চোখ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এর দুই দিন পর আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিশন সেন্টার থেকে পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থাপত্র নেওয়ার প্রায় দুদিন পর একটি চোখের ড্রপ পেয়েছি। ফার্মেসি ব্যবসায়ী আমার বন্ধু ছিল বিধায় দুই দিনে সংগ্রহ করে দিয়েছে।’
গোয়ালন্দ বাজারের বক্কার ফার্মেসির মালিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি চোখের ড্রপ ফার্মেসিতে রাখার জন্য। তবে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় সব কোম্পানি চোখের ড্রপ পর্যাপ্ত সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম, তখন চোখের ড্রপ ফরিদপুর থেকে আনতে হয়েছে।’
ফার্মেসি সুরক্ষা ড্রাগ হাউজের মালিক তপন কুমার বলেন, ‘চোখের ড্রপের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। শুরুর দিকে যা ছিল, সবার কাছে বিক্রি করেছি। কিন্তু পরে কোনো কোম্পানি আর পর্যাপ্ত চোখের ড্রপ সরবরাহ করতে পারেনি। ফলে সংকট দেখা দিয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম বলেন, ‘বছরের একটি সময় চোখের কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা রোগটি হয়ে থাকে, এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে, এটি ছোঁয়াচে রোগ এবং বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ হয়। ওষুধ সংকটের বিষয়টি আমরা শুনেছি।’
