সম্প্রীতির বাংলাদেশের স্বপ্নে রবীন্দ্রসংগীত

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ১১:২৮ পিএম

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আজ থেকে শুরু হলো জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকায় তিন দিনের আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭ শতাধিক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক। সম্মেলনে রবীন্দ্রপদক দিয়ে গুণী সম্মাননা জানানো হবে দুই গুণী শিল্পী, শিক্ষক ও সংগঠককে। তারা হলেন প্রয়াত সংগীতসাধক নীলোৎপল সাধ্য ও মিতা হক। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ইসলাম জানালেন, জাতীয় এ সম্মেলন এক বছর ঢাকায়, অন্য বছর অন্য জেলায় আয়োজন করা হয়। সবশেষ ২০২০ সালে হয়েছিল সিরাজগঞ্জে। কভিড মহামারীতে এক বছর বিরতির পর আবার এ বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের আয়োজনে ৪০তম এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। উদ্বোধন সকাল সাড়ে ৯টায় বোধনসংগীত ‘আপনি অবশ হলি, তবে বল দিবি তুই কারে?’ এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসব। তিন দিনের সান্ধ্য অধিবেশন সাজানো হয়েছে গীতি-আলেখ্য, আবৃত্তি, পাঠ, নৃত্য ও গান দিয়ে।

উদ্বোধন আয়োজনে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি আতিউর রহমান রচিত গীতি-আলেখ্য ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ’। প্রথম দিনের আয়োজনে পরিবেশিত হবে গীতি-আলেখ্য ‘তোমায় নতুন করে পাব’। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যেসব গান রণাঙ্গনে গীত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে মফিদুল হক এই গীতি-আলেখ্য গ্রন্থনা করেছেন। দ্বিতীয় দিন শনিবার বিকেলে ‘সম্প্রীতির সমাজ গঠনে সংস্কৃতির দায়’ শিরোনামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন নাসিরউদ্দীন ইউসুফ ও অধ্যাপক সাধন ঘোষ।

উৎসবের সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় দিন রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায়। সমাপনী অধিবেশনে রবীন্দ্রপদক দিয়ে গুণী-সম্মাননা জানানো হবে প্রয়াত সংগীতসাধক নীলোৎপল সাধ্য ও মিতা হককে। এ ছাড়া আজ বেলা আড়াইটায় জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতার কিশোর বিভাগের চূড়ান্ত পর্ব এবং কাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সাধারণ বিভাগের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সারওয়ার আলী বলেন, ‘সমাজে ধর্মান্ধতা ও নারীবিদ্বেষী প্রচারণা বাড়ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সমাজে সম্প্রীতি।’ বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ তার নানা রচনা ও ভাষণে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, সমাজের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের ক্ষত সারিয়ে তোলার পরামর্শ রেখেছেন। ‘আমরা বিশ্বাস করি, রবীন্দ্রনাথের কর্ম ও জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালি সংস্কৃতির নির্বিঘœ যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব।’ ১৯৭৯ সালে শিল্পী জাহিদুর রহিমের প্রয়াণ দিবসে কাজ শুরু হয়েছিল ‘জাহিদুর রহিম স্মৃতি পরিষদ’র। দেশব্যাপী বৃহত্তর পরিসরে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার লক্ষ্য নিয়ে পরে বাঙালির চিরকালের সঙ্গী রবীন্দ্রনাথের নাম যুক্ত করে সংগঠনের নাম করা হয় জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ। এরপর এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাঙালি সংস্কৃতির সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক বিকাশের ধারাকে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা।

নাম পরিবর্তন হলেও প্রয়াত স্মরণীয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী জাহিদুর রহিমের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ‘জাহিদুর রহিম স্মৃতি পুরস্কার’ প্রতিযোগিতার আয়োজন বহাল রয়েছে। বর্তমানে সম্মিলন পরিষদের সক্রিয় শাখা ৮৪টি। বুলবুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দিকের বার্ষিক অধিবেশনগুলো শুধু রাজধানী ঢাকাতেই হতো। শাখাগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং সংস্কৃতিচর্চার প্রসারে ১৯৮৪ সালে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বার্ষিক অধিবেশন হচ্ছে এক বছর ঢাকায়, পরের বছর অন্য জেলায়। সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন হচ্ছে এক বছর পরপর শুধু ঢাকার অধিবেশনে। প্রতি বছরই গুণীদের সম্মাননা জানায় পরিষদ। নির্বাচিত গুণীকে রবীন্দ্র-পদক ও অর্থ প্রদান করা হয় বলে জানান তিনি। এবারের আয়োজনে সহায়তা দিচ্ছে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, বেক্সিমকো পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত