সামুদ্রিক মাছেও মারাত্মক প্লাস্টিক কণা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩৪ পিএম

পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায়ই ছড়িয়ে পড়েছে প্লাস্টিকের দূষণ। সুউচ্চ পর্বতমালা থেকে গভীর সমুদ্রÑ সবখানে প্লাস্টিক দূষণ। প্রতিদিন গ্রহণ করা খাবার, পানি ও বাতাসের মধ্য দিয়ে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা আমাদের শরীরেও প্রবেশ করছে। নিউজিল্যান্ডের প্রতি চারটি মাছের মধ্যে তিনটির ভেতরে অতিমাত্রায় প্লাস্টিকের কণা (মাইক্রোপ্লাস্টিক) পাওয়া গেছে। এতে করে দেশীয় সামুদ্রিক পাখির বিশাল অংশ এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীও বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। সেই সঙ্গে উষ্ণতা বাড়ার ফলে স্থানীয় প্রজাতির জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে মহাসাগর। দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গবেষণার বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাগরে ফেলে দেওয়া খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, ব্যবহৃত কাপড়, মাছ ধরার পুরনো জালসহ বিভিন্ন উপকরণ মাছের পেটে চলে যাচ্ছে। বালুকণার চেয়েও ছোট এমন সব প্লাস্টিক কণার ব্যাপক উপস্থিতির কারণে মহাসাগরে বাস্তুসংস্থান চরম হুমকির মধ্যে পড়ে গেছে। এমন প্লাস্টিকের কণা মাছের জন্য যেমন ক্ষতিকর তার চেয়ে বেশি মানুষের জন্য। সার্ডিন, শেলফিশসহ যেসব মাছ আস্ত খাওয়া হয় সেগুলো মানব স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর। 

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ দেশীয় সামুদ্রিক পাখি, ৮২ শতাংশ সৈকতের পাখি, ৮১ শতাংশ সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং ২২ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।  

চলতি বছর ২৩ মার্চ মানবদেহের রক্তে প্রথমবারের মতো মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি খুঁজে পান গবেষকরা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশের রক্তে বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার খাওয়ার কারণে মানুষের মলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সবচেয়ে শঙ্কা জাগানো তথ্য হচ্ছে,  গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের পেটে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে গড়ে এক বছর বয়সী ছয়টি শিশুর মলে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিকের তৈরি চুষনি চোষা ও পাত্রে খাদ্যগ্রহণ, প্লাস্টিকের খেলনা মুখে দেওয়ায় শিশুরা প্লাস্টিকের সান্নিধ্যে বেশি আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত