ইউনুস মাঝি বরিশাল সদর উপজেলার ৯ নম্বর টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলে। ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার গতকাল রবিবার ১০ দিন পার হলেও এখনো সরকারের বরাদ্দকৃত কোনো চাল পাননি তিনি। ফলে পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
একই ইউনিয়নের আরেক জেলে ফোরকান গাজী বলেন, যহন ইলিশ ধরা বন্ধ থাহে তহন আপনারা আইয়্যা জিগান মোরা মাছ ধরি ক্যা। কিন্তু অবরোধ দেওয়ার আগে সরকার মোগে যে চাউল বরাদ্দ দেছে হ্যা পাইছি কিনা হেইয়ার কোন খোঁজ লন না। খালি মাছ ধরার সময় আইলেই আমনেগোরে দেহি। তিনি আরও বলেন, মোগে দেনার শেষ নাই, ঘরে সয়সদয় যা আছেলে হ্যা শেষ, এহন খামু কি। দুই হপ্তা গেলেও সরকারেরডে গোনে মোরা কিছু পাই নাই। পেডের দায় বাধ্য হইয়া হেদিন মাছ ধরতে গেছি পুলিশ আইয়া জালডু লইয়া গেছে।
সব জেলেরই একটাই অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন শেষেও এখনো কেন তাদের ঘরে চাল পৌঁছায়নি। ফলে অনেকেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই জাল নিয়ে নদীতে নামছেন। চাল না পাওয়ার ব্যাপারে সদর উপজেলার ৯ নম্বর টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নূর হোসেন মামুন বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দের চালের চিঠি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ৩-৪ দিনের মধ্যেই চাল বিতরণ শুরু হবে।
বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার দশটি উপজেলায় ৭৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ হাজার ৭শ জেলের জন্য বরাদ্দের চাল এসেছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় থেকে। তবে নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন পার হলেও এখনো জেলার সব উপজেলায় সেই চাল বিতরণ শুরু করতে পারেনি মৎস্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে বাকেরগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদী উপজেলায় ইতিমধ্যে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
এদিকে, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের গেল আট দিনে জেলেদের কারাদ-, জাল উদ্ধার এবং ইলিশ জব্দ করা হচ্ছে। অভিযান করতে গিয়ে জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি এই অভিযানকে কেন্দ্র করে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ইলিশ রক্ষা অভিযান শেষে জেলের ট্রলারে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও প্রতিদিনই চলছে মা ইলিশ নিধন। জেলেদের দাবি, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দের চাল পাননি তারা। আর পরিবার বাঁচিয়ে রাখতে তারা বেরিয়ে পড়ছেন ‘চোর-পুলিশ খেলায়।’
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের গেল আটদিনে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের দায়ে বরিশাল বিভাগে ৩০৪ জেলের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড হয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত প্রায় ৩১ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।
গত শনিবার দুপুরে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ইলিশ রক্ষায় বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ৩৪১টি মোবাইল কোর্ট বসে। অভিযান পরিচালিত হয় ১ হাজার ১২৬টি।
