ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন তৎকালীন সময় কুড়িগ্রামে এসে গরুর গাড়ি যোগে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেরিয়েছেন। এসময় তিনি তার বিখ্যাত গান 'ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে'। গানটি গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি। কালের পরিক্রমায়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ি আজ বিলুপ্তির পথে।
এক সময় কৃষি ও বিভিন্ন প্রকার পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র ভরসা। তবে সময়ের প্রয়োজনে বিলুপ্তির পথে সেই ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ৯-১০টি গরুর গাড়ি রয়েছে। কৃষিসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র অবলম্বন। তাছাড়াও একসময় গ্রামাঞ্চলে বিবাহ পর্যন্ত হতো গরুর গাড়িতে। ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। নানা ধরনের মোটরযান চলাচলের কারণে ধীরগতির এই গাড়িটি আজ বিলুপ্তির পথে। বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে- ট্রাক, পাওয়ার টিলার, ভ্যান, পিকাপ ভ্যান, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন মোটর গাড়ি।
বর্তমান গরুর গাড়ি তৈরিতে খরচ পরে সব মিলে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা।
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের প্রবীণ ব্যক্তি মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, আগে আমাদের গরুর গাড়ি ছিল। সেই গাড়িতে করে কৃষিপণ্য আনা- নেওয়া হতো। এখন গরুর গাড়ি তেমন একটা চোখে পরে না।
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার গাড়িয়াল পাড়া গ্রামের গরুর গাড়ি চালক মো. হবি ইসলাম জানান, দীর্ঘ বছর থেকে তিনি গরুর গাড়ি চালাচ্ছেন। গরুর গাড়ি চালাতে প্রতিদিন খরচ পড়ে ৭-৮ শত টাকা। আর আয় হয় ৫-৬ শত টাকা। আগামী বছরটা দেখবো পড়ে গাড়ি চালানো ছেড়ে দিব। কত আর সংসারের টাকা ভেঙে চলব।
কুড়িগ্রামের সিনিয়র সংবাদকর্মী মো. ইউনুস আলী বলেন, গরুর গাড়ি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, আমাদেরও গরুর গাড়ি ছিল এক সময়। গরুর গাড়িই ছিল যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। পণ্য পরিবহন, যোগাযোগ, বিবাহসহ রাজনৈতিক সভা-সমাবেশেও গরুর গাড়ি ব্যবহার হতো। সময়ের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী এই বাহনটি এখন হারিয়ে যাচ্ছে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহবায়ক শ্যামল ভৌমিক বলেন, গরুর গাড়ি এ অঞ্চলের প্রাচীন বাহন। ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন এই অঞ্চলে এসে গরুর গাড়ি যোগে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেরিয়েছেন। এসময় তিনি তার বিখ্যাত গান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই হাকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে’। গানটি গেয়ে প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করছিলেন। কালের পরিক্রমায়ায় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি আজ বিলুপ্তির পথে।
