এক যুগের বেশি সময়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১ হাজার ১৫১টি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স এসেছে ১ হাজার ৫৪৫টি। এর মধ্যে কিছুদিন আগে শেষ হওয়া উচ্চ আদালতের অবকাশে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৯টি। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এসব তথ্য জানিয়েছে।
তবে এসব মামলায় কতজনের ফাঁসি বহাল রয়েছে, কতজন খালাস পেয়েছে কিংবা সাজা কমেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদন্ড হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী সেটি নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। রায়সহ যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এটিই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিলের সুযোগ পান। আইনজীবীরা বলেন, এমনিতে যাবজ্জীবন বা অন্য দন্ডের ক্ষেত্রে পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ নেই। তবে কারও মৃত্যুদন্ড হলে এবং পলাতক থাকলে তিনি আপিল করুন বা না করুন এটি নিশ্চিত করতে হলে ডেথ রেফারেন্স শুনানি করতে হবে। পেপারবুক (রায়সহ যাবতীয় নথির অনুলিপি) সাপেক্ষে ডেথ রেফারেন্স মামলা হাইকোর্টের কার্যতালিকা অনুযায়ী শুনানিতে আসে। তবে কোনো কোনো মামলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত ও শুনানি হয়।
সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে ৪৩টি, ২০১১ সালে ৭৪টি, ২০১২ সালে ১৪৫টি, ২০১৩ সালে ১০২টি, ২০১৪ সালে ১৩৫টি, ২০১৫ সালে ৫৮টি, ২০১৬ সালে ৪৫টি, ২০১৭ সালে ৬৬টি, ২০১৮ সালে ৮৩টি, ২০১৯ সালে ১০০টি, ২০২০ সালে ৮৫টি, ২০২১ সালে ৯০টি এবং চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১২৫টি ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি, সরকার ঘোষিত ছুটির সঙ্গে অবকাশকালীন ছুটি ছিল উচ্চ আদালতে। এই সময়ে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত বিচারকাজ বন্ধ থাকলেও অবকাশের এই সময়ে নির্ধারিত কর্মদিবসে ৯টি বিশেষ বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দুই ধাপে মোট নিষ্পত্তি হয় ২৯টি ডেথ রেফারেন্স মামলা। এর আগে গত ২০ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনের অবকাশ সময়ে প্রথমবারের মতো ফাঁসির মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১১টি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। ওই সময়ে ৩৫টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি হয়।
