সাভারে লোডশেডিংয়ে কারখানায় কমেছে উৎপাদন

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১১ পিএম

রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে সরকারের দেওয়া লোডশেডিংয়ের নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে বাসিন্দারা জানান। বিভিন্ন শিল্প-কারখানার উৎপাদন কমে আসছে বলেও দাবি মালিকদের।

ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, দিনে কমপক্ষে সাত-আট ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়। কখনো একটানা আধা ঘণ্টা আবার কখনো এক ঘণ্টা দিনে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। যে কারণে আইপিএসও চার্জ হওয়ার সময় পাচ্ছে না। রাতেও একই অবস্থা। ৯টায় বিদ্যুৎ গেলে আসে ১টায়, আবার কিছুক্ষণ থেকে চলে যায়, আসে ভোর ৫টায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বৃহত্তর তৈরি পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের কর্মকর্তা বলেন, সারা দেশেই তো বিদ্যুতের চরম বিপর্যয় চলছে, আমরাও এর বাইরে না। দিনে আট ঘণ্টা আমাদের শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করেন। এর মধ্যে ছয় ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু এত অধিক লোডশেডিংয়ের কারণে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে জেনারেটরও অধিক লোড নিতে পারছে না। যে কারণে যথাসময়ে বায়ারদের অর্ডার অনুযায়ী উৎপাদন এবং শিপমেন্ট সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুততম সময়ে এ অবস্থার উত্তরণ না হলে পোশাক শিল্প মুখ থুবড়ে পড়তে পারে ।

এদিকে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিংয়ের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাভার চামড়া শিল্প নগরী। দিনে ছয়-আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক চামড়া। এর ফলে সময়মতো বিদেশে পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না।

সারা দেশ থেকে লবণজাত চামড়া এনে প্রক্রিয়াজাত করে থাকেন ট্যানারি মালিকরা। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো এগুলো প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে দিনের বেশির ভাগ সময় এ শিল্পে জড়িত শ্রমিকদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।

ট্যানারি শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল ৮টায় বিদ্যুৎ গেলে ১২টায় আসে। আবার আধঘণ্টা থেকে চলে যায়, তিন ঘণ্টা পর আসে। এতে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় খুব অসুবিধার পাশাপাশি চাকরি নিয়েও টানাটানি চলছে।

ট্যানারি মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা সময়মতো বায়ারদের শিপমেন্ট করতে পারছি না। এ ছাড়া শ্রমিকরাও ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় আমরা অনেক সমস্যায় রয়েছি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের প্রায় অর্ধেক সময় আমরা বিদ্যুৎ না পাওয়ায় আমাদের ট্যানারির কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ বললেই চলে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের চামড়া শিল্পেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

ট্যানারি এলাকার দায়িত্বে থাকা ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ডিজিএম গোলাম কবির বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে চামড়া নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত এবং মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শুধুমাত্র বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর জন্য আরও ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিদ্যুতের বিপর্যয় ঠেকাতে এবং বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সরকার লোডশেডিংসহ নানা পদক্ষেপ হাতে নিলেও সড়ক ও জনপথের কিছু কর্মকর্তার উদাসীনতার কারণে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কিছু অংশে দিনের বেলায়ও সড়ক বাতি জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজে দেওয়া সড়ক নির্দেশিকার বোর্ডগুলোতেও আলো জ্বলতে দেখা যায়।

ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার মোল্লা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের সর্বমোট চাহিদা রয়েছে ২৫৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে আমরা ১১৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোড পাই। মাঝে মধ্যে এর চেয়েও কম পাই। তারপরও আমাদের অর্ধেকের বেশি ঘাটতি থাকে। যে কারণে বর্তমানে আগের চেয়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশি। তবে মাঝখানে একটু ভালো হয়েছিল। রাতের বেলায় আমরা আবার ভালো লোড পাই। আগামী নভেম্বর থেকে লোডশেডিংয়ের উন্নতি হবে। এ সময় শীতের কারণে চাহিদাও কমে আসবে।

এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাভার চামড়া শিল্প নগরী (ট্যানারি), বিপিএটিসি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত