চাঁদপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মা ইলিশ ধরার দায়ে ৪১ জেলেকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। অভিযানে এক কোটি ৪৭ লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ ৯টি মাছ ধরার নৌকা ও ১৫১ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বিকেল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালায়।
চাঁদপুর সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁদপুরের মোহনাসহ মোহনপুর, কানুদী, সফরমালী, রাজরাজেশ্বর চর, লক্ষ্মীরচর, কাচিকাটা চর, পুরান বাজার, বহরিয়া, হরিণাসহ পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসময় নদীতে মাছ শিকাররত অবস্থায় ৪১ জেলেকে আটক করা হয়। পরে আটক ১৯ জেলের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়।
এছাড়াও আরও ১৯ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং ৩ জনের বয়স কম হওয়ায় সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামীতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
নিয়মিত মামলা দায়েরকৃত জেলেরা হলেন- মো. রাসেল, লিটন মিয়া, মো. মোস্তফা দর্জি, সাত্তার, আল আমিন, বিটু ছৈয়াল, মনির হোসেন, মো. ইব্রাহিম, আবুল বাশার, শাহাবুদ্দিন, মোহাম্মদ শরীফ, আক্তার হোসেন, আমজাদ, আব্দুর রহমান প্রধান, ওসমান, মাহফুজ মিয়া, আব্দুর রহমান, নাসির উদ্দিন ও তজু মাঝি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন- মঞ্জিল মিয়া, আব্দুল কাদির, জাহাঙ্গীর হোসেন, হাসান, হাসান বেপারী, আল আমিন, আব্দুর রহমান, হাবিব বেপারী, মতিন মজুমদার, তোফাজ্জল হোসেন, মাহফুজ, আলাউদ্দিন, জুয়েল গাজী, কাউছার, দুলাল মিয়া, সুমন মিয়া, গোলাম রব্বানী, বিল্লাল হোসেন ও রিপন মিয়া। অপ্রাপ্তবয়স্ক তিন জেলে হলো- সুমন, ওমর ফারুক ও সেলিম।
নিরাপদ প্রজননের জন্য গত ৭ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময়ের ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম শুরু হয়। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকাসহ দেশের ৬টি অভয়াশ্রমে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে সরকার। যা আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলার ৪৪ হাজার ৩৫ জন জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
