শিবচরের পদ্মা নদীতে সিমেন্ট ও সার বোঝাই ১৩টি বাল্কহেড ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এই বাল্কহেডডুবির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর থেকে ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে চরজানাজাত নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে প্রবল ঝড়ো বাতাসে পদ্মানদীর শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের চায়নাখাল ও চরজানাজাত ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি এলাকায় নোঙ্গর করে রাখা ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারসহ এমভি সালসাবিন, ৫শ মেট্রিক টন সারসহ এমভি কাঁঠালবাড়ি, ৬ হাজার ৫শ বস্তা আমান সিমেন্টসহ সাজেদা পরিবহন-২, ৯ হাজার বস্তা সেভেন রিং সিমেন্টসহ আলফি-৩, ১০ হাজার বস্তা আকিজ সিমেন্টসহ সামির এন্ড মোহাম্মদ, ৯ হাজার ৫ শ বস্তা ফ্রেস সিমেন্টসহ এমভি আর এন এন্টার প্রাইজ, ৮ হাজার ৫ শ বস্তা প্রিমিয়ার সিমেন্টসহ এমভি মোহাম্মদীয়া-৪, ৬ হাজার বস্তা বসুন্ধরা বীর সিমেন্টসহ একটি নৌযানসহ অন্তত ১৩ টি বাল্কহেড ডুবে যায় বলে জানা গেছে।
এতে কয়েক কোটি টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। ৮টি বাল্কহেডের মালামালের তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি ৫ টি নৌযানের মালামালের তথ্য পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে শিবচর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
চরজানাজাত নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘাট থেকে অদূরে নদীর মধ্যে মালামাল বোঝাই নোঙর করে রাখা বাল্কহেড ঘূর্ণিঝড়ের রাত্রে ডুবে যায়। বুধবার নিজস্ব উদ্যোগে ডু্বে যাওয়া নৌযান থেকে মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে শিবচর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা তরুণ-উজ্জামান বলেন,'খবর পাওয়ার পরে মঙ্গলবার আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় কোন হতাহত নেই। মালামাল বোঝাই নৌযানগুলো নদীতে নোঙর করে রাখা ছিল।'
চরজানাজাত পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. জাহানুর আলী বলেন,'মোট কতটি বাল্কহেড ডুবেছে তা জানা যায়নি। ১৩/১৪ টি নৌযানের অংশ বিশেষ দেখা যাচ্ছে। ওই সকল নৌযানে সিমেন্ট,সারসহ অন্যান্য মালামাল রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা ব্যক্তি উদ্যোগে মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডগুলো উদ্ধারের বিষয়ে আমরা বিআইডব্লিউটিএ'র সাথে আলাপ করছি।'
