বিডিপি নামেই কি কাজ করবে জামায়াত

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৪১ পিএম

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে বুধবার (২৬ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) নামে নতুন একটি দল। নতুন এই দলের সঙ্গে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা আছে বলে আলোচনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বিডিপির চেয়ারম্যান (যিনি ডেমরা থানা জামায়াতের নেতা হিসেবে আলোচিত) আনোয়ারুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা সম্পূর্ণ নতুন একটি রাজনৈতিক দল। আরেকটু সংগঠিত হয়ে তারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে এক পর্যায়ে আনোয়ারুল ইসালম দাবি করেন, দেশের সংবিধান মেনে তারা রাজনীতিতে এসেছেন। দেশের সংবিধানের প্রতিটি শব্দ তারা সম্মান করেন এবং সেটা লালন করেই রাজনীতি করেন। সংবিধানের বাইরে কোনো কিছুতেই যেতে তারা রাজি নন। মুক্তিযুদ্ধের পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে। যারা স্বাধীনতার পরে জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের কেউ যুদ্ধাপরাধী বানালে বানাতে পারে।

যদিও বিডিপির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হকের (নাঈম) রাজনৈতিক পরিচয় অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিজামুল হক জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদের সদস্য হন।

এদিকে, ২০ দলীয় জোটের প্রধান দল এবং জামায়াতে ইসলামীর 'রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক' হিসেবে পরিচিত বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে চলতি বছরের ৮ অক্টোবর দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের গোপন আঁতাত রয়েছে। ভিন্ন নামে জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বিনিময়ে তারা আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে। শুধু তা-ই নয়, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জামায়াত নেতাদের মধ্যে কেউ যুদ্ধাপরাধী আছে কিনা সরকারের একটি সংস্থা খোঁজ নিচ্ছে। তারা গ্রিন সিগন্যাল দিলে ভিন্ন নামে জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন: আন্দোলনে বিএনপি নির্বাচনে জামায়াত!

তখন নতুন নামে নিবন্ধন নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সেলের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘জামায়াত আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি নয়। আমরা যা কিছু করব প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই করব। নতুন নিবন্ধনের বিষয়ে আমাদের দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে জামায়াত নির্বাচনমুখী একটি দল। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন আসনে সক্ষমতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।’ 

সে সময় দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছিল, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর তৎপরতায় লিপ্ত। পাশাপাশি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১০০'র বেশি আসনে নিজেদের প্রার্থী ঠিক করেছে জামায়াত। বগুড়া-৭ আসন, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করেন, সেই আসন বাদে অন্য সব আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত।

খালেদা জিয়ার আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মতিউর রহমান আকন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে সব আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।’

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনো আপস করে না; গোপন এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নই আসে না।’

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। এর পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধন বাতিলের পর ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।

সবকিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ আলোচনা শুরু হয়েছে, এখন কি তবে বিডিপি নামেই কাজ করবে জামায়াত?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত