দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কবিরাজি পেশার আড়ালে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন হেমায়েত খান ওরফে জাহিদ কবিরাজ (৫২)। রোগীর ছদ্মবেশে হেমায়েত কবিরাজের আস্তানায় হাজির হন সদস্য। গত বুধবার রাতে কেরানীগঞ্জে তাকে সেই আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হেমায়েত একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে হেমায়েত জানান, তিনি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। ২০০৫ সালে বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর মনু বেগম হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ১৭ বছর ধরে তিনি দেশে ও ভারতে কবিরাজি পেশার ছদ্মবেশে পলাতক জীবনযাপন করে আসছিলেন।
হেমায়েত পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের সামসুল হক খানের ছেলে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কবিরাজি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের আংটি ১২৯টি, শঙ্খ ৩টি, আলাদিনের চেরাগ ১টি, ক্রেস্ট ২টি, কবিরাজি সংক্রান্ত বই ১৫টি, পিতলের পাঞ্জা ১টি ও কবিরাজি সংক্রান্ত অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ সব তথ্য জানান।
র্যাবের মুখপাত্র জানান, ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে বাগেরহাটে মনু বেগম নামের এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে হেমায়েতসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের জুন মাসে আদালত আসামি হেমায়েতকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এ আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করে থাকে। র্যাব জানতে পারে রাজধানীতে কবিরাজি পেশার আড়ালে প্রতারণা করা হেমায়েতই মনু হত্যা মামলার আসামি। কবিরাজি পেশার মাধ্যমে নানাভাবে মানুষের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করতেন। নারীরাই ছিলেন তার প্রতারণার মূল টার্গেট। ২০০৩ সালে তিনি তার স্ত্রী-সন্তানসহ পিরোজপুর থেকে বাগেরহাটে এসে কবিরাজি ব্যবসা শুরু করেন। ২০০৫ সালে জানুয়ারিতে মনু বেগম চিকিৎসার জন্য হেমায়েতের কাছে যান। মনুর সরলতার সুযোগে তার টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেন। এমনকি সহায় সম্পত্তিও হাতিয়ে নেন হেমায়েত। মনু সহায় সম্পদ ফেরত চাইলে তাকে হত্যা করেন। র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, হত্যা মামলা দায়েরের পর যশোরে একটি মাজারে আশ্রয় নেন হেমায়েত। পরদিন গ্রেপ্তার এড়াতে হেঁটে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে আজমির শরিফ মাজারের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি তিন বছর অবস্থান করেন। ২০০৮ সালে পুনরায় অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ফিরে এসে ঢাকার মিরপুরে বসবাস শুরু করেন। পরিচয় গোপন করে লম্বা চুল ও দাঁড়িওয়ালা ছবি ব্যবহার করে তার আসল নাম ও স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করেন।
