পাকিস্তানের হৃদয় ভেঙে জিম্বাবুয়ের এক রানের জয়

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২২, ০২:২০ এএম

পার্থে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের ভাগ্য গড়াল শেষ ওভারে। পাকিস্তানের দরকার ১১ রান। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নামা ব্র্যাড ইভান্স স্নায়ুর চাপ সামলে দারুণ বোলিং করলেন। প্রথম তিন বলে এলো ৮। চতুর্থ বল ডটের পর পঞ্চম বলে ইভান্স ফিরিয়ে দিলেন পাকিস্তানের শেষ ভরসা মোহাম্মদ নাওয়াজকে। ১ বলে দরকার ৩ রান। শেষ বলে টাইয়ের লক্ষ্যে দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটতে থাকা শাহিন আফ্রিদি রানআউট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়ের উল্লাসে মাতেন জিম্বাবুইয়ানরা।

মাত্র ১৩০ রান করেও ১ রানের জয়ে ভাষাহীন ম্যাচসেরা সিকান্দার রাজা, ‘ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। সম্ভবত জয়ের আবেগেই এমনটি হচ্ছে। বলে বুঝাতে পারব না এই ছেলেদের নিয়ে আমি কতটা গর্বিত। আমাদের পেসাররা শুরুটা ভালো করেছিল। পরে ফিল্ডিংয়েও দারুণ।

তাতে (জয়ের) বিশ্বাসটা বাড়ে। আসলে (অনুভূতি) বলে বুঝাতে পারব না।’ এবারের বিশ্বকাপে রাজা এখন পর্যন্ত জিতেছেন তিনটি ম্যাচসেরা পুরস্কার।

পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটাই ভালো হয়নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের মতো হাসছে না পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমের ব্যাটও। ভারতের বিপক্ষে প্রথম বলে আউট বাবর গতকাল ৬ বলে কোনো রান নিতে পারেননি। সপ্তম বলে চার দিয়ে আগল ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এক বল পরই ইভান্স ফিরিয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ককে। রিজওয়ানও (১৪) ফেরেন দ্রুতই। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন শান মাসুদ ও শাদাব খান। ৫২ রানের জুটি গড়েন এ দু’জন। ইনিংসের ১৫তম ওভারে রাজার টানা দুই ‘নাকল বলে’ আউট হন শাদাব খান ও হায়দার আলি। জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডার হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও তার ওই ওভারের পরই জমে ওঠে ম্যাচ। ১৭তম ওভারে গারাভা মাত্র ৩ রান দেন। তাতে সহজ লক্ষ্যের ম্যাচে শেষ তিন ওভারে পাকিস্তানের দরকার ২৯! চাপের মধ্যেও পরের ওভারে মুজারাবানি দেন মাত্র ৭ রান। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে নাওয়াজ গারাভাকে ছক্কা হাঁকান। ওই ওভার আসে মোট ১১। এরপর ইভান্সের ওই নাটকীয় ওভার।

তার আগে টস জেতা জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পায়। দলীয় ৪২ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙে। ১৯ বলে ১৯ করে ফেরেন ক্রেইগ আরভিন। তবে ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৬৭ রান করে তারা। পরের পাঁচ ওভারে দারুণ বোলিং করেন পাকিস্তানি বোলাররা। শাদাব ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ৬ বলের মধ্যে ৪ উইকেট তুলে নিলে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ওয়াসিম হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে বলটি ওয়াইড করেন। তার আগে শাদাব ওভারের শেষ দুই বলে নেন উইকেট। তাতে আর বড় স্কোর গড়তে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ২৮ বলে তিন চারে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন শন উইলিয়ামস। শেষ দিকে ১৯ রান করেন ইভান্স। ওয়াসিম ২৪ রানে ৪ এবং শাদাব খান ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন।

সুপার টুয়েলভের জয়টা বিশেষ জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেগ আরভিনের কাছে। ‘এটি বিশেষ কিছু। সুপার টুয়েলভ পর্বে আসতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমরা টুর্নামেন্ট সুপার টুয়েলভেই শেষ করতে চাইনি। টপ দলগুলোর বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলতেই এসেছি। ব্যাটিংয়ের পর ভেবেছিলম আমাদের ২০-২৫ রান কম। কিন্তু পেসাররা দারুণ শুরু করেছিল। রাজা মাঝে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছে।’ পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম স্বীকার করে নিয়েছেন দলের খারাপ পারফরম্যান্সের বিষয়টি। 

পাকিস্তানের কাছে টানা ১৫ ম্যাচ হারার পর গত বছর হারারেতে প্রথম জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। ১১৮ রানের পুঁজি নিয়ে পাকিস্তানকে ৯৯ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল তারা।  এক ম্যাচ পর আবার জিতল। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বৃষ্টিতে পন্ড ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট, আর এই জয়ে ৩ পয়েন্ট পাওয়া জিম্বাবুয়ে চলে এলো সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। অন্যদিকে গত বছর গ্রুপের সব ম্যাচ জয়ী পাকিস্তান টানা দুই হারে নেমে গেল তলানিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত