চীনের ধনী এবং উচ্চ মধ্যবিত্তরা আতঙ্কে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৫৮ পিএম

সম্পদের পুঞ্জিভবন নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি নীতিমালা চীনের ধনী এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ নীতিমালাটি স্পষ্ট নয়। তারা বলছেন, ‘এটি যত বেশি অস্পষ্ট, সবাই তত বেশি ভয় পায়।’

আর্থ-সামাজিক বৈষম্য মোকাবিলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত বছর প্রথম এই নীতিমালার কথা বলা হয়েছিল। গত রবিবার ২০তম পার্টি কংগ্রেসে তৃতীয় মেয়াদে দলের নেতৃত্ব এবং দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শি জিনপিং ফের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

চীন কীভাবে ‘আয় বণ্টন এবং সম্পদ আহরণের উপায়গুলোকে সুনিয়ন্ত্রিত রাখবে’ তা হাইলাইট করার পাশাপাশি কীভাবে ব্যক্তিগত আয়কর ব্যবস্থা উন্নত করা হবে তার রূপরেখা দিয়েছেন শি।

শি বলেন, ‘আমরা বৈধ আয় রক্ষা করব, অতিরিক্ত আয় সামঞ্জস্য করব এবং অবৈধ আয় নিষিদ্ধ করব’।

যদিও চীনের কর্তৃপক্ষ বলছে যে, রবিন হুড-স্টাইলে ধনীদের কাছ থেকে চুরি করে গরীবদের দেওয়া হবে না। তবুও, বিনিয়োগ এবং সম্পদ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

গুয়াংডং-ভিত্তিক ইমিগ্রেশন এজেন্ট এবং বিদেশী সম্পদ ব্যবস্থাপক ইকো লিয়াং বলেন, ‘মনে হচ্ছে যে, এতে ধনিক শ্রেণীকেই টার্গেট করা হবে। যদিও এখন পর্যন্ত আমরা পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা কী হবে এবং এর তীব্রতা কতটুক হবে তা জানি না। তবে এটি যত বেশি অস্পষ্ট, সবাই তত বেশি ভয় পায়। এছাড়া চীনের পয়সাওয়ালাদের এখন বিশ্বব্যাপী পোর্টফোলিও বিনিয়োগের সুযোগও কমে আসবে। ফলে তাদেরকে ফের চীনের নীতি এবং বাজারের উপর অত্যধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হবে। আর যারা অল্প সময়ে বা দ্রুত বেড়ে চলা শিল্প থেকে প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছেন তাদের ওপরও নিয়ন্ত্রণের খড়গ নেমে আসতে পারে।’

২০১৮ সাল থেকেই চীনের অনেক অতি ধনী লোক তাদের সম্পদের একটি বিশাল অংশ নিয়ে দেশ ছাড়তে শুরু করেছে। সম্পদের পুঞ্জীভবন নিয়ন্ত্রণের নতুন এই নীতিমালার ফলে আরও অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে এই নীতিমালা কার্যকর করার পর চীন থেকে সম্পদ নিয়ে যাওয়াও আরো কঠিন হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত