চীনের হেনান প্রদেশের রাজধানী ঝেংঝৌতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আইফোন কারখানার কয়েকজন কর্মী করোনা পজিটিভ হওয়ার পর সেখানে লকডাউন জারি করেছে চীন সরকার। আর সেই লকডাউন থেকে বাঁচতে কারখানার কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে পালাচ্ছেন শ্রমিকরা। এই শ্রমিক পালানো ঠেকাতে কর্মীদের চার গুণ বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কারখানা কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
করোনা মহামারীর শুরু থেকে শূন্য কভিড নীতিতে চলছে চীন সরকার। আর এ নীতি অনুযায়ী, চীনে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়। ঝেংঝৌতে অবস্থিত তাইওয়ানভিত্তিক মোবাইল প্রস্তুতকারী কোম্পানি ফক্সকনের কারখানাটিতে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে লকডাউন জারি করা হয়। এশিয়ায় আইফোন প্রস্তুতের জন্য অ্যাপলের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ফক্সকনের।
কারখানা কর্র্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিনই তাদের কর্মীদের করোনা পরীক্ষা করানো হতো। তাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হতো। তবে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই কারখানার কর্মীরা অভিযোগ করেন, যারা করোনা আক্রান্ত হননি তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে না। সেই সঙ্গে কাজের পরিবেশও ভালো না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লকডাউনের কারণে যানবাহন না থাকায় ফক্সকনের সেই কারখানা থেকে পালিয়ে হেঁটেই বাড়ির দিকে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।
ঝেংঝৌর ফক্সকন কারখানা কর্র্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে জানায়, কর্মীরা আগে ১০০ ইউয়ান বোনাস পেলেও এখন থেকে কাজে উপস্থিত থাকলে ৪০০ ইউয়ান পাবেন। এ ছাড়া কর্মীরা নভেম্বর মাসে ১৫ দিন বা তার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত বোনাস পাবেন। যদি একজন কর্মী পুরো মাস উপস্থিত থাকেন, তাহলে ১৫ হাজার ইউয়ান বোনাস পাবেন।
ফক্সকন কর্মীদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি যেসব কর্মী নিজেদের বাড়িতে ফিরতে চান, তাদের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। এদিকে ওই কারখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের শহর ছাড়ার আগে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার। করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণের কারণে চীনে গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।
