সমাবেশে গুলিবিদ্ধ ইমরান ক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২, ০২:১৬ এএম

পাকিস্তানে ইমরান খানের লংমার্চে ঢুকে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এতে ইমরান খানসহ অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ইমরান খানের ওপর হামলা চালাতে আসা একজন নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশটির পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে পথ সমাবেশ আয়োজন করে পিটিআই। সেখানেই ইমরান খানকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

গত ২৯ অক্টোবর থেকে লংমার্চ শুরু করেছেন ইমরান খান। ষষ্ঠতম দিনে হামলার শিকার হলেন তিনি। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ওপর হামলার পরই দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু করেছেন তার সমর্থকরা। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরা ইমরান খানও বলেছেন, সৃষ্টিকর্তা তাকে দ্বিতীয় জীবন দিয়েছেন। এবার আরও প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে সরকারের বিরুদ্ধে।

ইমরান খানের ওপর হামলার পর অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এ ঘটনার নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত করার জন্য দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও নির্দেশ দিয়েছেন। শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘আমি এ ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি। আমি পিটিআইয়ের চেয়ারম্যানসহ আহতদের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করি।’

এ ঘটনায় শাহবাজের পাশাপাশি বিশ্বনেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করে টুইট করেছেন। সাবেক এ ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের লোকজনও।

অবশ্য এ ঘটনায় হামলাকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, ইমরান খান লোকজনকে বিভ্রান্ত করছিলেন বলে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন তিনি। পুলিশের কাছে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে এ খবর।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, সমাবেশস্থলে দুজন হামলাকারী ছিলেন। তাদের একজনের হাতে পিস্তল এবং একজনের হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল।

পিটিআই নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরীর বরাতে ডন বলছে, পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে সমাবেশের সময় হামলা হয়। সেখানে যে কনটেইনারে মঞ্চ বানিয়ে এ সমাবেশ হচ্ছিল, সেখান থেকে ইমরানকে পরে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি বলেন, ইমরান খান এবং (দলীয় সহকর্মী) ফয়সাল জাভেদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একটি বুলেট ইমরানের পায়ে হাঁটুর নিচে আঘাত করেছে। দুজনকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোও বলছে, বৃহস্পতিবার ওয়াজিরাবাদের ওই সমাবেশস্থল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইমরানকে। গুলির খবর পেয়ে পাঞ্জাব পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

ইমরান খানের ঊর্ধ্বতন সহযোগী রউফ হাসান বলেছেন, ইমরানকে হত্যার চেষ্টা চলেছিল। তার পায়ে গুলি লেগেছে। তবে আঘাত গুরুতর নয়। তিনি স্থিতিশীল আছেন।

ইমরান খানের আরেকজন সহযোগী জানান, একজন ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। এতে কয়েকজনের সঙ্গে ইমরানও আহত হন।

পাকিস্তানের জিও টিভি পরে এ গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন একজন গ্রেপ্তার হওয়ার কথা জানিয়েছে। হামলার নিশানা ইমরানই ছিলেন কি না তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে জানায়নি। তবে তা ফাওয়াদ চৌধুরী এক টুইটে বলছেন, ইমরানের ওপর হামলা ছিল খুবই সুপরিকল্পিত একটি হত্যা প্রচেষ্টা। নাইনএমএম পিস্তল নয়, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি বেরিয়েছে। ইমরান যে কানের কাছ দিয়ে বেঁচে গেছেন, এতে কোনো দ্বিমত নেই।

গত মাসে একটি মামলায় পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ইমরান খানকে সরকারি কোনো পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। ওই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেন সাবেক এ ক্রিকেট তারকা।

ইমরানের বিরুদ্ধে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপহারের বিবরণ এবং সেগুলো বিক্রি থেকে আয়ের বিবরণ ভুলভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। উপহারগুলোর মধ্যে বিখ্যাত রোলেক্স ব্র্যান্ডের একাধিক ঘড়ি, একটি আংটি এবং একজোড়া কাফ লিঙ্কও রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত