টালমাটাল টুইটার

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২২, ১০:১৯ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেনার আগের চেয়ে কেনার পরই বেশি বেশি সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন টুইটারের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়ে। ব্লুমবার্গ-রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, টুইটারের নতুন মালিক মাস্ক প্ল্যাটফর্মটির অর্ধেক কর্মী কমিয়ে ফেলতে চান। মালিকানা পেয়েই টুইটারের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ পরাগ আগারওয়ালকে চাকরিচ্যুত করেন মাস্ক। তবে এজন্য পরাগকে তার প্রায় ৪২৮ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করতে হবে। তবুও চাকরিচ্যুত করা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভারতে টুইটারের প্রায় পুরো টিমই ছাঁটাই করেছেন মাস্ক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে ভারতে টুইটারের ২৩০ জনের মতো কর্মী থেকে প্রায় ১৮০ জনকেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মাস্কের যুক্তি, প্রতিদিন টুইটারের ৪০ লাখ ডলারের লোকসান কমাতেই এই ছাঁটাই। 

এদিকে মাস্কের এই ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিকে ঢেলে সাজানোর সমালোচনা করছেন টুইটারকে দাঁড় করানো শীর্ষ কর্মকর্তারা। টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও এই কোম্পানির প্রথম শীর্ষ নির্বাহী জ্যাক ডরসি চাকরিচ্যুত কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। গতকাল রবিবার টুইট বার্তায় ডরসি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, (টুইটারকর্মীদের) অনেকেই আমার ওপর ক্ষুব্ধ। আমি স্বীকার করছি, বর্তমানে তারা যে পরিস্থিতিতে পড়েছেন–তাতে আমার দায় রয়েছে। আমি খুব দ্রুত কোম্পানির আকার বড় করার নীতি নিয়েছিলাম। সেজন্য তাদের সবার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ অন্যদিকে টুইটারের ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রুস ডেইসলি বলেছেন, ‘মাস্ক ভেবেছেন যে তিনি একাই সব সমস্যার সমাধান করবেন। তিনি সবকিছু দ্রুত সেরে ফেলতে চাইছেন। কিন্তু এটা কঠিন বিষয়। তিনি জানেন না তিনি কী করছেন, তিনি টুইটারের সবাইকে ভয়ের মধ্যে রেখেছেন।’ 

টুইটারের ভেরিফায়েড গ্রাহকদের এখন থেকে প্রতি মাসে আট ডলার করে দিতে হবে। ডেইসলি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, “মাস্ক এটা ‘পকেট মানি’ বানানোর জন্য করেছেন।”

এ বছরের এপ্রিলে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে সামাজিকমাধ্যম টুইটার কেনার ঘোষণা দেন মাস্ক। আবার হুট করে সরে যান ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ক্ষেত্রে টুইটার যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না অভিযোগ করে। ফলে টুইটারের শেয়ারের দর পড়তে থাকে। শুরু হয় আইনি লড়াই। এরপর আদালত মাস্ককে নির্দেশ দেয় ২৮ অক্টোবরের মধ্যে টুইটার কেনার। এই প্রেক্ষাপটে গত ২৭ অক্টোবর বুধবার আচমকাই সান ফ্রান্সিসকোয় টুইটারের সদর দপ্তরে হাজির হন মাস্ক। টুইটারের দপ্তরে মাস্কের প্রবেশেও নাটকীয়তা ছিল। হাতে সিংক বা বেসিন নিয়ে টুইটারের দপ্তরে ঢুকতে দেখা যায় তাকে। এ নিয়ে একটি ভিডিও টুইট করেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেন ‘তাহলে ভেতরে ঢোকা যাক!’ এখানে নাটকীয়তার শেষ নয়, বরং শুরু। গত ২৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার টুইটারের মালিক হয়েই তিনি ঘোষণা দেন ‘পাখি এখন মুক্ত’। টুইটারের লোগো একটি নীল পাখি আর মাস্কের ঘোষণা হলো এই প্ল্যাটফর্ম হবে সবার মতপ্রকাশের উন্মুক্ত জায়গা।

অবশ্য তার এমন ঘোষণার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত শুক্রবার এক সভায় বাইডেন বলেন, ‘এখন আমরা সবাই দেখছি যে, ইলন মাস্ক একটি মাধ্যম কিনেছেন যা বিশ্বজুড়ে মিথ্যে ছড়াচ্ছে।’ সামাজিক মাধ্যমটিতে প্রকাশিত তথ্যে কোনো রকম সম্পাদনা না থাকা, যাচাই না করার প্রবণতায় শঙ্কা প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রজন্ম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সবাই এতে শঙ্কিত; কারণ আমেরিকায় এখন আর কোনো সম্পাদক নেই।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত