সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘২০২৪ সালের জুন নাগাদ পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার রেলপথের নির্মাণকাজ শেষ হবে। এতে রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত হবে দক্ষিণ-পশ্চিমের ৯টি জেলা। ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রাম করফায় বাবার নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ‘অধ্যাপক শেখ মো. রোকন উদ্দিন আহমেদ’ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই করফা গ্রাম আমার বাপ-দাদার জন্মভিটা। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে এই এলাকায় আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। এখানে এসে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
পরে তিনি মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যান। এ সময় সেনাপ্রধানকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেখানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সেনাপ্রধানের পিতার নামে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রোকন উদ্দিন আহমেদ ভবনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি বিদ্যালয় চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের এবং লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন।
বক্তব্যকালে ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘করফা গ্রাম আমার পৈতৃক ভিটা। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এখানে আমি ছিলাম। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই এলাকা আগের থেকে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সব মিলিয়ে নড়াইলের আরও উন্নয়ন হবে।’
এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধানের স্ত্রীসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
এর আগে সেনাপ্রধান পদ্মা সেতু ও ছয় লেনের মধুমতী সেতু হয়ে প্রথমে লোহাগড়া মধুমতী আর্মি ক্যাম্পে আসেন এবং রেল সংযোগ নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন।
