সোনারগাঁয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সই জাল করে ভুয়া ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) দিয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে বারদী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল ও সাবেক ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন আহত হন।
বিদ্যালয় ও জালিয়াতির ঘটনায় করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারদী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের জমিদাতার মধ্যে বিরোধ চলছিল। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনোনীত করার জন্য বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে জহিরুল হক, জসিউর রহমান ও মো. জাকির সরকারের নাম প্রস্তাব করে পাঠালেও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বাবুল সোনারগাঁ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার সই জাল করে ভুয়া ডিও লেটার বোর্ডে পাঠিয়ে নিজেই সভাপতি হন।
এ জালিয়াতির খবর পেয়ে গত ৮ নভেম্বর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. সাঈদ সরকার সিনিয়র সহকারী জজ সোনারগাঁ আদালতে মামলা করেন। মামলার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেয় আদালত।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল ও তার ভাই আমিনুল স্কুলে সভা করার জন্য অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফাকে চাপ দেন। আদালতের নির্দেশনা না পেলে সভা করা সম্ভব নয় বলে অধ্যক্ষ তাদের জানিয়ে দেন। এদিকে স্কুলে সভা করতে আসার খবর পেয়ে মামলার বাদী সাঈদ সরকার ও সাবেক ইউপি সদস্য দাইয়ান সরকার স্কুলে এলে তাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান বাবুলের তর্ক হয়। তর্কের একপর্যায়ে বাবুল দাইয়ানকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে দাইয়ানের লোকজন বাবুল ও তার ভাই আমিনুলকে পিটিয়ে আহত করেন। এ সময় দুপক্ষের পাঁচজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে দাইয়ান সরকারকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সাঈদ সরকার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন বাবুল স্থানীয় সাংসদের সই জাল করে ভুয়া ডিও লেটার তৈরি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়েছেন। সে জন্য আমি আদালতে মামলা করে কমিটি বাতিলের আবেদন করেছি। বাবুল জোর করে মিটিং করার জন্য প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেন। খবর পেয়ে আমরা স্কুলে এলে বাবুল ও তার লোকজন আমাকে ও আমার লোকজনকে পিটিয়ে আহত করেন।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বারদী ইউপির চেয়ারম্যান লায়ন বাবুলের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি ধরেননি।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা গতকাল মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অধ্যক্ষ যে তিনজনের নাম বোর্ডে পাঠিয়েছেন সে বিষয়ে অবগত আছি। ওই তিনজনের মধ্যে জাকির সরকারকে সভাপতি করার জন্য আমি বোর্ড বরাবর ডিও লেটার দিয়েছি। কিন্তু বাবুল আমার ডিও লেটার ও সই জাল করে বোর্ডে পাঠিয়েছে বলে শুনেছি।’
সোনারগাঁ থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘বারদী স্কুলে সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
