ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ খেরসন শহরটি চলতি বছরের মার্চেই দখল করে রুশ সেনারা। গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়া যে চারটি ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করে খেরসন সেগুলোর একটি। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার দখল করা একমাত্র প্রাদেশিক রাজধানী ও বৃহত্তম ভূখণ্ড হলো খেরসন। খেরসন প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী হলো খেরসন শহর। দিনিপ্রো নদীর পশ্চিম তীরে খেরসন শহরের অবস্থান। সম্প্রতি এই যুদ্ধে আলোচনার কেন্দ্রতে ছিল খেরসন। কারণ এখানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণ এবং শহর খালি করতে রাশিয়ার একের পর ঘোষণা আসছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ করে গত বুধবার মস্কো থেকে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু শহর থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এরপরই শহর থেকে রুশ সেনাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন ইউক্রেন যুদ্ধের রুশ কমান্ডার সের্গেই সুরোভিকিন। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, খেরসনে রসদ সরবরাহ ও অবস্থান ধরে রাখা আর সম্ভব না।
খেরসনের পশ্চিম তীর থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রায় ৯ মাসের যুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় পশ্চাৎপরণ। এদিকে ঘোষণা দিয়ে খেরসন থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারকে রাশিয়ার ‘প্রকৃত দুর্বলতা’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, মস্কো যে চূড়ান্ত সমস্যার মুখোমুখি তা একেবারে স্পষ্ট। তিনি বলেন, রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই বার্তা দিল যে, ‘রুশ সেনারা সত্যিকারের সমস্যায় আছে।’ বাইডেন জানান, এমন সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন এবং এটি শীতের আগে ‘দুইপক্ষের সেনাদের অবস্থান ঠিক’ করার সুযোগ দেবে।
এদিকে বিবিসি বলছে, খেরসন শহর ত্যাগে রাশিয়ার ঘোষণায় সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘রাশিয়ার এই ঘোষণার পর তার দেশ খুব সতর্কভাবে খেরসনের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’
রাশিয়ার খেরসন ত্যাগের হঠাৎ ঘোষণায় সন্দেহে রয়েছে ইউক্রেনের। জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইল পোডোলিয়াক রাশিয়ার খেরসন শহর ছাড়ার নেপথ্য কারণ নিয়ে তার দেশের সন্দেহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রুশদের কথায় ও কাজে মিল নেই। ফলে রুশ কমান্ডার সুরোভিকিন খেরসন ছাড়ার কথা বললেও এখনই তারা এটি বিশ্বাস করবে না। রুশ সেনারা সত্যিই খেরসন ছাড়ছে কি না সেটি আগে নিশ্চিত হতে হবে।’ এছাড়া এখনই খেরসন শহরে ইউক্রেন তাদের সেনাদের পাঠাবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে টুইটে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রভাবশালী এ উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘কথার চেয়ে কাজের মূল্য বেশি। কোনো লড়াই ছাড়া রাশিয়া খেরসন শহর ছাড়বে এমন কোনো ইঙ্গিত আমরা দেখিনি। রুশ সেনাদের একটি অংশ শহরেই রয়ে গেছে এবং আরও রিজার্ভ সেনা পুরো অঞ্চলের দায়িত্বে আছে। ইউক্রেন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিজ অঞ্চল স্বাধীন করছে, টিভিতে দেওয়া মিথ্যা বক্তব্যের ওপর না।’
রুশ সেনারা কোনো শহর বা অঞ্চল থেকে পিছু হটলে সেখানে মাইন পুঁতে যায়। থাকতে পারে বিস্ফোরক লাগানো মরণফাঁদ বা বুবিট্র্যাপ। ফলে হঠাৎ করে ইউক্রেনের সেনারা খেরসন শহরে ঢুকে পড়বে না। যদিও গত দুই মাস ধরে ধীরে ধীরে খেরসন শহরের দিকে এগিয়েই আসছিল তারা।
