পাবনা মানসিক হাসপাতাল

৪ মাস ধরে ধারদেনায় খাবার সরবরাহ

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২, ১২:২১ এএম

টেন্ডার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় চার মাসেরও বেশি সময় ধরে ধারদেনা করে খাওয়ানো হচ্ছে পাবনা মানসিক হাসপাতালের আবাসিক রোগীদের। পাওনাদারের কাছে হাসপাতালের বকেয়া প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এতে খাবারের মান নিম্নমুখী হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সময় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

পাবনা মানসিক হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে পাবনা মানসিক হাসপাতালের আবাসিক রোগীদের খাবার ও ওষুধ সরবরাহের দরপত্রে ‘উপকরণের নাম উল্লেখ নেই’ অজুহাতে মামলা করে রোজ এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেই মামলায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। কিন্তু ওই মামলা খারিজের দুই মাস পেরোলেও নতুন করে টেন্ডার না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ।

এমন বাস্তবতায় হাসপাতালে সপ্তাহে মাত্র দুদিন রোগী ভর্তির সিদ্ধান্ত দিয়ে আদেশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, গত জুনের পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে না পারায় খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত জুলাই থেকে ‘কমিটি করে’ রোগীদের জন্য বাকিতে খাবার কিনছে।

অনুমোদন ছাড়া বিপুল অঙ্কের টাকা এভাবে খরচ করায় বিপাকে পড়ে গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হঠাৎ রোগী ভর্তি বন্ধ ও ভর্তি রোগীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. রতন রায়। ডা. রতন রায় বলেন, ১০ লাখ টাকার বেশি খরচ করা যায় না। তিন মাস বাকিতে খাবার কিনতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকার অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় ছিল বলে সে সময় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মানসিক হাসপাতালের দরপত্র প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে ই-টেন্ডার করার উদ্যোগ নেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে এ মামলা করে থাকতে পারে।

এ ঘটনার পর আদালত মামলা খারিজ করে দেওয়ায় এখন দরপত্র আহ্বানে বাধা নেই বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত স্টুয়ার্ড আতোয়ার রহমান বলেন, এ হাসপাতালের কোনো রোগীকে বাইরের খাবার দেওয়ার সুযোগ নেই। দুবার নাশতা ও দুবার ভারী খাবার পুষ্টিগুণ বজায় রেখে পরিবেশন করা হয়। ১০৫ টাকায় চার বেলার খাবার ব্যবস্থাপনা এখন খুবই কষ্টসাধ্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুনামগঞ্জ থেকে আসা এক রোগীর ভাই বলেন, হাসপাতালে যে খাবার দেওয়া হয় তা আমার ভাই ঠিকমতো খেতে পারে না। দিনের পর দিন তাকে খাওয়ার কষ্ট করতে হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলেও বাইরে থেকে খাবার কিনে দেওয়া সম্ভব নয়। এখানে বাইরের খাবার গ্রহণ করা হয় না। ফলে সে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, বর্তমান বরাদ্দে চার বেলা খাবার সরবরাহ করতেই আমরা হিমশিম খাই। ইচ্ছা থাকলেও খাবারে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সমাধানের অনুরোধ করেছি। ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। তবে তা শেষ হতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত