অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় জাপান

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২, ০১:২৯ এএম

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের তরফে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্নের বিষয়ে যেভাবে বলা হয়েছে তাতে দৃঢ়তার সঙ্গে আস্থা রাখতে চায় জাপান। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে এমনটা আশা করার পাশাপাশি নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের প্রত্যাশা করছে দেশটি। গতকাল সোমবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

২০১৮ সালের নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় জাপান দূতাবাস সহিংসতা নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিল। এটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। কারণ, জাপান কোনো দেশের নির্বাচনের পর এ ধরনের বিবৃতি দেয় না। আমি শুনেছি, পুলিশ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে ফেলেছে। অন্য কোনো দেশে এ ধরনের উদাহরণ শুনিনি। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি উচিত নয় বলেও মন্তব্যে করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফর প্রসঙ্গে ইতো নাওকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। উভয় নেতার বৈঠকে সমন্বিত অংশীদারত্ব, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার মতো আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে চায় জাপান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নতিতে জাপানের ভূমিকা আছে। গত তিন বছরে ৩০০ কোটি ডলার সহযোগিতা দিয়েছে। জাপানের সহায়তায় যেসব প্রকল্প আছে সেগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব আছে এবং আরও অনেক নতুন উপাদান যুক্ত হচ্ছে। এসবের মধ্যে দিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করবে।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। এ পরিস্থিতি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তারা কাজ করতে প্রস্তুত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গাদের শিগগিরই প্রত্যাবাসন করা যাচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্যানিটেশন, পুষ্টি সহায়তা ও ত্রাণের মতো মূল গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলোর ওপর জোর দিচ্ছে। এ বিষয়ে জাপানের প্রাইভেট কোম্পানিও কাজ করছে। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে শিগগিরই পূর্ণ মাত্রায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা দেখছেন না ইতো নাওকি।

ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত