ভোট নিয়ে জাপান রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে বিব্রত সরকার

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২, ০১:২৬ এএম

স্বাধীনতার ৫০ বছর ধরেই জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের নিবিড় বন্ধুত্ব। ২৯ নভেম্বর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফর ঘিরে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে হঠাৎ করে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার মতো ঘটনা না ঘটা এবং একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের প্রত্যাশা করে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বিব্রত হয়েছে সরকার। সেই বার্তা দিতেই মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ডাকা হয়েছিল রাষ্ট্রদূতকে। তবে তাকে কী বলা হয়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়।

জাপানের রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। ইতো নাওকির বক্তব্যের পরের দিনই সরকারের দুই মন্ত্রী এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন এবং এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে নাÑ এমন ইঙ্গিত করেন। গতকাল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের ঠিক আগে আগে ইতো নাওকির বক্তব্য বিব্রতকর হলেও সফরে এ নিয়ে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ তিনি বা তার দেশ বিগত নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেয়নি। তা ছাড়া জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এই সফরে আরও নতুন উচ্চতায় যাবে বলেই মনে করে সরকারপক্ষ।

মঙ্গলবার রাতে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে ডাকার পর গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের অ্যাম্বাসাডরকে ডেকেছিলাম। তাকে যা যা বলা দরকার, আমরা বলেছি। সবকিছু বিস্তারিত গণমাধ্যমে বলার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। তাই এ বিষয়ে কোনো গণমাধ্যমে আমরা আর কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর হবে আসন্ন প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মধ্যে দিয়ে। এই প্রত্যাশায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই সফর বাংলাদেশের এবং জাপানের সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে বলে আশা করি।’

এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বন্ধু দেশের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করে না বাংলাদেশ। কারণ, গত চার বছরে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেনি জাপান সরকার। জাপানের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া এ ধরনের বক্তব্য অনাকাক্সিক্ষত। তার কাছে এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিদেশি কূটনীতিকরা শিষ্টাচার লঙ্ঘন করলে সরকার কঠোর হবে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকিকে ‘বঙ্গবন্ধু পদক’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের আগে এমন একজন পেশাদার কূটনীতিক ‘শোনা কথা’র ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ্যে যে মন্তব্যে করেছেন, সেটা শিষ্টাচার লঙ্ঘন এবং একই সঙ্গে বিব্রতকর।

গত সোমবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি শুনেছি এখানে (বাংলাদেশ) পুলিশ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে ফেলে। আমি অন্য কোনো দেশে এ ধরনের উদাহরণ শুনিনি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি উচিত নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত