এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রশ্নের বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যশোর বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। এখন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেওয়া হবে। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে।’
কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে অধ্যাপক নেহাল আহমেদ আরও বলেন, ‘এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি তাদের চিরদিনের জন্য বোর্ডের সব ধরনের কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করা হবে। আর সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের কী লঘুদ- না গুরুদ- হবে সে ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
সূত্র জানায়, সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রশ্নটি করেছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা. সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। ওই প্রশ্ন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত চার মডারেটরকেও শনাক্ত করা হয়। তারা হচ্ছেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুর রহমান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দিন শাওন ও মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ।
গত ৬ নভেম্বর বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এইচএসসি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের দেওয়া বাংলা প্রথম পত্র প্রশ্নের চতুর্থ পৃষ্ঠার ১১ নম্বর প্রশ্নে এমন বিষয় বেছে নেওয়া হয়, যা খুবই সংবেদনশীল বিষয়। আর এ প্রশ্নপত্র করা হয় যশোর বোর্ড থেকে। এজন্য গত ৮ নভেম্বর যশোর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক কেএম রাব্বানীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান হাবীব বলেন, বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ডিজি ও সচিবকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
