যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, দুর্ঘটনা বলার চেষ্টা!

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২, ০২:০৩ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত এক যুবলীগ নেতার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনদের ভাষ্য, গত রবিবার রাতে আউচপাড়ার সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে হামলার শিকার হন সাইফুল ইসলাম (৪৮) নামে ওই যুবলীগ নেতা। আহত অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে সাইফুল ইসলামের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই শুভ মন্ডল বলছেন, নিহত সাইফুলের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্নিত পাওয়া যায়নি

নিহত সাইফুল ইসলাম গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

স্বজনরা জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন সাইফুল। রাত সোয়া ৮টার দিকে সফিউদ্দিন একাডেমি রোডে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তার ওপর চড়াও হয়। তাদের হামলায় আহত সাইফুলকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ পাশের একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায়, দুই যুবক মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে সাইফুলের কাছে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে কয়েকটি রিকশা আটকা পড়ে এবং লোকজন জড়ো হয়। ফুটেজে পথচারীদেরকে ভয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল অতিক্রম করতেও দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা লোকজন জানায়, ওই মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক টঙ্গী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য। তাদের মধ্যে চালকের আসনে ছাত্রলীগ নেতা রাতুল ও পেছনের ছিটে ছাত্রলীগ নেতা তামীমকে স্থানীয়রা চিনতে পেরেছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে রাতুলের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ছাত্রলীগ নেতা তামীম বলেন, ‘আমরা মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে সাইফুল ভাইয়ের সাথে দুই যুবককে তর্ক করতে দেখি। পরে আমরা মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে চলে যাই।’ সাইফুলের সঙ্গে তর্কে জড়ানো যুবকদের তিনি চিনতে পারেননি বলেও দাবি করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘটনাস্থলের পাশের একটি দোকানের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘সাইফুল জোরে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজালে এক যুবক প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইফুল ওই যুবককে থাপ্পড় মারেন। এর প্রতিশোধ নিতে ওই যুবক ও তার সহযোগীরা সাইফুলকে মারধর করে।’

প্রতিবেশী মো. জালাল জানান, সাইফুলকে ঘটনাস্থলে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিচিত একজন তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তখন তিনি সাইফুলদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পান এবং তার নাক দিয়ে রক্ত ও মুখ দিয়ে লালা বের হতে দেখেন। পরে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রিকশায় উঠিয়ে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালটির আইসিইউতে স্থানান্তরের কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান সাইফুল। হাসপাতালে নেওয়ার সময় ওই রিকশাচালক তাদের জানান, সাইফুলকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকরা মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

সাইফুলের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই শুভ ম-ল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহত সাইফুলের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। যে রক্তের কথা বলা হচ্ছে সেটি মুখ দিয়ে বের হওয়া পানের পিক।’

তবে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাফি মোহাইমেন বলেন, ‘নিহতের ময়নাতদন্তকালে শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও বুকের নিচে জমাটবদ্ধ রক্ত পাওয়া গেছে।’

নিহতের চাচাতো ভাই হাজী বাবলু বলেন, ‘পুলিশ ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল থেকে আমাদেরকে বের করে দিয়ে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাক্তারি সনদ নিয়েছে।’

নিহত সাইফুল ইসলামের বড় ভাই মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। লাশ দাফন শেষে আত্মীয়স্বজনের সাথে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত