৫০ শয্যার সেবাও নেই নামে ১০০ শয্যা

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০২:৩৮ এএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নামে ১০০ শয্যার হলেও, সুযোগ-সুবিধা নেই ৫০ শয্যারও। ফলে নদীবন্দর ও বাণিজ্য শহর হিসেবে পরিচিত জনবহুল এই উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠী সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দিন দিন চিকিৎসা প্রত্যাশীদের ক্ষোভ বাড়ছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মোকাবিলায় প্রতিদিন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

জানা যায়, ১৯৬৫ সালে স্থাপিত ভৈরব পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পর্যায়ক্রমে ১৯৭৭ সালে ৩১ শয্যার থানা স্বাস্থ্য কমপ্লে­­­ক্স এবং ১৯৯৪ সালে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে­­­ক্সে রূপান্তরিত হয়। চলতি বছরের শুরুতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ করে। অবকাঠামো নির্মাণের পর প্রশাসনিক অনুমোদনের আগেই গত ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হয়েছে মর্মে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং উদ্বোধন করেন। সেদিন তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘আপনাদের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হলো। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিসহ সব বিভাগের চিকিৎসাসেবা শুরু হবে। আপনাদের চাহিদা বেড়ে গেলে ১০০ শয্যা থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হবে।’

কিন্তু তার উদ্বোধন এবং ঘোষণার পর ৮/৯ মাস চলে গেলেও ১০০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদনসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের কিছুই হয়নি।

এদিকে বর্তমানে ৫০ শয্যা চালু থাকলেও রয়েছে নানা সংকট। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটের পাশাপাশি আছে পর্যাপ্ত ওষুধ স্বল্পতা। এছাড়া এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন প্রায়ই নষ্ট থাকে। প্রয়োজনীয় ল্যাব সরঞ্জাম ও ডেন্টাল বিভাগের যন্ত্রপাতি না থাকায় দরিদ্র জনগণকে বাধ্য হয়ে বাইরের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ল্যাব থেকে সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে। এতে করে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হাসপাতালের সামনে কথা হয় বৃদ্ধা জমিলা বেগমের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হোঁচট খেয়ে পড়ে পা ভেঙে গেছে। চিকিৎসা করাতে এসে সিøপ কেটে এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার এক্সরেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা দেন। কিন্তু কোনো কিছুই হাসপাতাল থেকে করা যায়নি। বাইরের একটি ক্লিনিক থেকে করতে হয়েছে। এমন হলে খামাখা এখানে এসে লাভ কী?’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ৫০ শয্যার সুবিধা আছে। কিন্তু রোগী ভর্তি থাকেন প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন। এই অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ জন শয্যা পান না। থাকতে হয় ফ্লোরে। বরাদ্দের খাবার, ওষুধসহ অন্যান্য সুবিধা পান না তারা। এরা আমাদের সঙ্গে ক্ষোভ দেখান।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হলেও এখনো প্রশাসনিক অনুমোদন হয়নি। তাই জনগণ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত